July 7, 2026, 3:10 am

আমি সব শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধি হতে চাই: মিলন

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, February 7, 2026
  • 132 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম ফজলুল হক মিলন বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা আমাকে ভোট দিলে আমি সব শ্রেণিপেশার মানুষের জনপ্রতিনিধি হব। মুসলিম, সনাতন, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করব। দলমত, শ্রেণি, পেশা, গোত্র, বর্ণের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। কালীগঞ্জ ও পূবাইলকে একটি শান্তির ও উন্নয়নের জনপদে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পূবাইল মেট্রো থানার চামুড্ডা, মেঘডুবী, তালটিয়া, মারুকা ও নন্দীবাড়ি এলাকায় বিভিন্ন পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফজলুল হক মিলন বলেন, আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি-এই এলাকার রাস্তা-ঘাট-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। আমি আগামী ৫ বছর আপনাদের সন্তান হিসেবে, ভাই হিসেবে, শ্রমিক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকব, সুখ দুঃখের সঙ্গী হব। এই অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার এবং বেকার জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে সব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করব।
বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অতীতের জুলুম নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাকে দিয়ে কারো প্রতি জুলুম হবে না। সে সঙ্গে আমি কথা দিচ্ছি-আমার কর্মীরা কারো প্রতি কোনো জুলুম করবে না। আমার ও আমার লোকজনের কোনো অন্যায়ের শিকার একটি মানুষও হবে না।
ফজলুল হক মিলন বলেন, এতদিন যারা আমাদের ওপর জুলুম নির্যাতন করেছেন, আমার নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায় করেছেন, বাড়িছাড়া থাকতে বাধ্য করেছেন তাদের ওপর কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। আমরা কালীগঞ্জ ও পূবাইলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অহিংস রাজনীতি নিশ্চিত করব। সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, হামলা-মামলা-জেল-জুলুম-হুমকি উপেক্ষা করে গত সতেরটি বছর রাজপথে থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। নিশিরাতের ভোটের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছে। আজ ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে দেশ। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়া দেশবাসীর হক। কারণ এই যে ভোটাধিকার, এটি বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই অর্জিত হতে যাচ্ছে।
সাবেক দুইবারের এ এমপি বলেন, সতেরটি বছর কালীগঞ্জ ও পূবাইলে কী উন্নয়ন হয়েছে আপনারা দেখেছেন। উন্নয়নের নামে লুটপাট, দুর্নীতি ও পকেটভারি হয়েছে। কারণ যারা উন্নয়নের দায়িত্বে ছিল তাদের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি ছিল না। তাদের ভোটের প্রয়োজন ছিল না। বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সব এমপির জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, এটিই আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি-এ অঞ্চলের মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজন আমার জানা। আপনাদের ভোটে আল্লাহ যদি আমাকে সংসদে যাওয়ার তাওফিক দেন তবে আমি আমার মনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পূবাইল ও কালীগঞ্জকে উন্নয়নের রঙে রাঙাব।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন-আমরা কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চাই। সেই বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা, সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ সর্বোপরি কল্যাণ রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য আপনাদের আমার সহযাত্রী হতে হবে। ধানের শীষে ভোট দিয়ে উন্নয়ন করার সুযোগ করে দিতে হবে।
ফজলুল হক মিলন বলেন, আমি ১১ বার জেল খেটেছি, আমার স্ত্রী ৭ বার হামলার শিকার হয়েছেন। আমার হাজার হাজার নেতাকর্মী হামলা-মামলার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যেই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের এই ত্যাগ, সেটির ফল ভোগ করার সময় এসেছে। ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে নিজেদের অধিকার বাস্তবায়ন করুন। আমি কথা দিচ্ছি, আমি এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন-সমৃদ্ধির জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করব।
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন- পূবাইল থানা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন বকুল, গাজীপুর সিটির সাবেক কাউন্সিলর সুলতান উদ্দিন আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর ও পূবাইল থানা বিএনপি সাবেক সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান বিকি, পূবাইল থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম ও সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, পূবাইল থানা যুবদলের আহ্বায়ক মজিবুর রহমান, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হোসেন ভুইয়া, নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নূর আলী, আনিসুর রহমান মৃধা, কামাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোল্লা, সিরাজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সদস্য সাখাওয়াত হোসেন খোকন, বিএনপি নেতা সোলায়মান, মোবারক হোসেন, শাহীন ভুইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কাজল, যুবদলের সদস্য সচিব আবুল হোসেন, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসনে, যুবদল নেতা সোহেল খান, আনোয়ার হোসেন, শাহীন ভুইয়া, হাবিবুল্লাহ হাবিব প্রমুখ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর