June 15, 2026, 5:16 pm

৫ সিটিতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এখন ‘নগর অভিভাবক’

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, March 14, 2026
  • 109 জন দেখেছে

দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারির ধারাবাহিকতায় এবার দেশের আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
শনিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া এই পাঁচজনই মাঠপর্যায়ের তুখোড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতা।
আগামীকাল রোববার থেকেই তাঁরা নিজ নিজ নগরীর প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়ে দেশের মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে সরাসরি রাজনৈতিক প্রশাসকদের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করা হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা নিজ নিজ এলাকায় মেয়রের সমমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করবেন। যারা নতুন দায়িত্ব পেলেন-
বরিশাল সিটি করপোরেশন: বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন: রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন: ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রুকুনোজ্জামান রোকন।
রংপুর সিটি করপোরেশন: রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজ উন নবী চৌধুরী।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন: কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ২৫ক ধারার উপধারা (৩) অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই আইন মোতাবেক, নির্বাচিত মেয়র না থাকা অবস্থায় এই প্রশাসকরাই সিটি করপোরেশনের যাবতীয় প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরাই এই ‘নগর অভিভাবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নির্বাচন পরবর্তী নতুন মেয়রের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের প্রধান ছয়টি সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
একমাত্র চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বর্তমানে আদালতের নির্দেশে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে দেশের প্রায় সবকটি প্রধান নগরী এখন সরাসরি বিএনপির স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে চলে এল।
আজ দুপুরে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এই প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। জোটের নেতারা একে ‘নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঁয়তারা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে দলীয় নেতাদের বসানো গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নাগরিক সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ করতেই এই অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ইতিহাসে এটি একটি বিরল চিত্র, যেখানে একই সাথে প্রায় সবকটি বড় নগরীর দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাদের হাতে ন্যস্ত করা হলো। এখন দেখার বিষয়, পেশাদার আমলাদের বদলে রাজনৈতিক নেতারা নগরীর দৈনন্দিন সেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং উন্নয়ন কাজে কতটা মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেন। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলতে থাকা জাতীয় সংসদের অধিবেশন এবং রাজপথের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই হয়তো এই প্রশাসকদের স্থায়িত্ব নির্ধারিত হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর