নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫২ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ত করে প্রায় দুই লাখ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) চসিকের জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী-অভিভাবক উদ্বুদ্ধকরণ কমিটির কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপসচিব ড. কিসিঞ্জার চাকমা।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ ছাড়া জলাবদ্ধতাসহ নগরীর বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’
মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জলাবদ্ধতা নিরসনে বড়বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। খাল-নালা ও ড্রেনে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। পানি চলাচলের পথ দখল ও বাধাগ্রস্ত করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। এ জন্য নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি।’
নগরের বিভিন্ন অনিয়মের উদাহরণ দিয়ে মেয়র বলেন, ‘অনিয়ম দেখলে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেন, কিন্তু প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন না।’
গতকাল দেশের প্রথম ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সাইকেল ট্র্যাক পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরদিনই সেখানে একটি লরি রাখা হয়েছে। সাইকেল ট্র্যাক কিংবা ফুটপাত দখল হলে শুধু সিটি করপোরেশনকে দোষারোপ না করে নাগরিকদেরও প্রতিবাদ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য, ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার জন্য নয়। অথচ নিজেরাই ফুটপাত দখল করে গাড়ি রাখছি, আবার দখলমুক্ত করতে ব্যবস্থা নিলে তার সমালোচনা করছি। এভাবে নগরীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।’
নগরের সম্পদ রক্ষায় নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের স্থাপন করা অনেক ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। নগরের সম্পদ চুরি বা নষ্ট হতে দেখলে সেটিকে নিজেদের সম্পদ মনে করে প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ, এসব অবকাঠামো জনগণের অর্থে তৈরি। এগুলো রক্ষার দায়িত্বও সবার।’
মেয়র আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী তার পরিবারকে সচেতন করতে পারে। পরিবার থেকে সেই সচেতনতা ছড়িয়ে পড়তে পারে সমাজে। এভাবে পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।’
জানা গেছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে গত ৬ আগস্ট ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে উপদেষ্টাদের পরামর্শে ১০৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। চসিক পরিচালিত ৭২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ, প্রচার কার্যক্রম, বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং গ্রিন অ্যাম্বাসেডর ঘোষণাসহ সাত দফা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক দলে ভাগ করে সপ্তাহের পাঁচ দিন পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন, পরিচ্ছন্নতার শপথ পাঠ, প্রতি মাসে দুইবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রতি দুই মাসে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।