মো: মেহেদী হাসান, ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধ:: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের তেলুয়ালী গ্রামের রায়বাজার আশা হোটেলের মালিক মো. আসুদ রানার তালবন্ধ বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘরের তালা ভেঙে প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, ৫ ভরি ওজনের রূপার নূপুর এবং একটি আইপিএস ব্যাটারি চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক তার ১টার দিকে রায় বাজারের আইসি রোড এলাকায় এ চুরি ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো.আসুদ রানার শ্যালিকা অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার সেবাযত্নের জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্ত্রীসহ হাসপাতালে চলে যান আসুদ রানা। প্রায় ১২ দিন তারা হাসপাতালেই অবস্থান করছিলেন। সেই ফাঁকা থাকা বাসাবাড়ির সুযোগ নিয়ে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রায়বাজার আইসি রোড এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে।
শনিবার সকালে আসুদ রানার ছোট ভাই মো. বাবু মিয়া বড় ভাইয়ের ঘরের দরজায় চোখ পড়লে দেখতে পান ঘরের দরজায় তালা নেই এবং দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘর লণ্ডভণ্ড অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তার বড় ভাইকে ফোন করে চুরির সংবাদ জানান। খবর পেয়ে ভাগলপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শনিবার সকালে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন আসুদ রানা। ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, মূল দরজার তালা ভাঙা এবং আলমারি ও শোকেসের তালা ভেঙে মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
চোরেরা আলমারি ও শোকেস ভেঙে ১টি স্বর্ণের গলার চেইন, ২টি স্বর্ণের কানের দুল, ৪টি স্বর্ণের আংটি, ৫ ভরি ওজনের ২ টি রূপার নূপুর এবং একটি আইপিএস ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালিকের দাবি, চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা।
ঘটনার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রায়বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে । তালাবন্ধ বাড়িকে লক্ষ্য করে এমন চুরির ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আসুদ রানা জানান, আমি আজ ১২ দিন ধরে বাড়িতে নেই, আমার শালি অসুস্থ হয়ে বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলো তার সেবাযত্ন ও দেখাশোনা করার জন্য রোগীর পাশে আমি এবং আমার স্ত্রী সেইখানেই ছিলাম। আজ ১২ দিন ধরে ঘরে তালা লাগানো ছিলো। আমার ঘরের দরজার তালা ভেঙে একটি সোনার চেইন, দুই-টি সোনার খানের দুল, চার-টি আংটি, দুই-টি রূপার নূপুর ৫ ভরি ওজনের প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মতো মালামাল চুরি হয়েছে।
এ বিষয়ে রায়বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হাসান বলেন, “বাড়ির মালিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িটি ফাঁকা থাকার সুযোগে চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বাড়ির তিনটি কক্ষের মধ্যে একটি কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”