নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের ১০১ জন গুণী শিক্ষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) ফসল উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাছেত মিয়া। শিক্ষকতা, গবেষণা ও কৃষি শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুণী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১০১ জন শিক্ষককে জাতীয়ভাবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১২ জন শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হতো। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছেত মিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে গাকৃবির উপাচার্য বলেন, এ সম্মাননা তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা, গবেষণা ও কৃষি শিক্ষায় অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরও গৌরব। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।
সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছেত মিয়া বলেন, একজন শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীদের সফলতা এবং তাঁদের মাধ্যমে দেশ ও সমাজে অবদান রাখার সুযোগই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া এ সম্মাননা তাঁর শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনের জন্য আনন্দ ও অনুপ্রেরণার। এ সম্মাননা তিনি সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও দীর্ঘ পথচলার সহযাত্রীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।
সম্প্রতি ফসল উদ্ভিদবিদ্যা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক, শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি অব প্ল্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (বিএসপিএসটি) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের তৃতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছেত মিয়া। এর আগে তিনি গাকৃবির কৃষি অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করেন।
ফসল উদ্ভিদবিদ্যায় শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি গ্রন্থ রচনাতেও তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে A Text Book of Embryology and Reproductive Structure of Crop Plants, Morphology and Taxonomy of Crop Plants এবং Nutritions of Crop Plants। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি গাকৃবির প্রখ্যাত ক্রপ বোটানিস্ট হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে রাষ্ট্রীয় এ সম্মাননাকে তাঁর দীর্ঘ একাডেমিক ও গবেষণা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।