August 9, 2026, 9:54 pm

টাঙ্গাইলের মধুপুরে গারো পল্লী থেকে জাতীয় কারাতে চ্যাম্পিয়ন নাম্বিয়া

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, August 9, 2026
  • 15 জন দেখেছে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:: টাঙ্গাইলের মধুপুরের শালবনের পাশে ছোট্ট গারো পল্লী জয়নাগাছা। চারদিকে সবুজের সমারোহ, পাখ-পাখালির মিতালী আর শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। এমন পল্লী অঞ্চল থেকে কারাতে শিখে বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেছিলেন এক কিশোরী। সেই স্বপ্নে পথে অনেকটাই এগিয়েছেন তিনি। বলছি পল্লীর প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা কিশোরী নাম্বিয়া লুইজি নকরেক’র কথা। সম্প্রীতি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে উপজেলা, জেলা ও ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাফল্যের পর জাতীয় পর্যায়ে কারাতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মধুপুরের এই গারো কন্যা। তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আনন্দে ভাসছে জয়নাগাছা গারো পল্লী। পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে গ্রামের ছোট-বড় সবাই গর্বিত তার এমন অর্জনে।নাম্বিয়া টাঙ্গাইল কালেক্টরেট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে গ্রামের কৃষক দম্পতি মিন্টু দিব্রা ও শুকলা নকরেক ছোট মেয়ে। শৈশব থেকেই খেলাধুলার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। নিজের ফিটনেস ঠিক রাখা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য কারাতে শেখা শুরু করেন। তবে নিয়মিত অনুশীলন ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে কারাতের প্রতি তৈরি হয় ভালোবাসা।
উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা, ঢাকা বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন নাম্বিয়া। কঠোর অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অর্জন করেন চ্যাম্পিয়নের গৌরব। নাম্বিয়ার স্বপ্ন এখন আরও বড়। শুধু জাতীয় পর্যায়েই থেমে থাকতে চান না। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে দেশের সুনাম বয়ে আনতে চান এই কিশোরী। মেয়ের সাফল্যে গর্বিত মা শুকলা নকরেক। স্বজন ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নাম্বিয়া একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
স্থানীয়রা বলছেন, নাম্বিয়ার এই অর্জন শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো গারো সমাজের জন্য গর্বের। প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ের জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অন্য শিশু-কিশোরদেরও খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে। প্রতিভার কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই। শালবনের ছোট্ট গারো পল্লীর মাটির ঘর থেকেও স্বপ্ন দেখা যায়। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। সেটাই প্রমাণ করেছেন নাম্বিয়া।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর