নিজস্ব প্রতিবেদক :: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে গাজীপুর-২ (সদর ও টঙ্গী) আসনের নির্বাচনী মাঠে উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকেই তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গাজীপুর-২ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত লড়াই হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু নাছের খানের মধ্যে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৯ থেকে ৩৯ এবং ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই শিল্প অধ্যুষিত আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও গাজীপুর সিটির প্রথম মেয়র প্রয়াত অধ্যাপক এম এ মান্নানের পুত্র এম মঞ্জুরুল করিম রনি ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ায় তাঁর পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও জনসমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াত সমর্থিত এনসিপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু নাছের খানও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এবং তাঁর কর্মীরাও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় পার্টির মো. মাহবুব আলম (লাঙ্গল), বাসদের অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল কাইয়ুম (মই), সিপিবি’র মো. জিয়াউল কবীর (কাস্তে), গণ অধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খান (ট্রাক), গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম (মাছ), বাসদের (রেজা) মাসুদ রেজা (কাঁচি), জনতা দলের মো. শরিফুল ইসলাম (কলম) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জিত বড়ুয়া (ফুটবল)।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, এম মঞ্জুরুল করিম রনি পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও এনসিপি প্রার্থী আবু নাছের খান বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন, যার অর্ধেকের বেশি নারী। নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মোট ২৭২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭০টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা অধিক সতর্কতামূলক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।