July 6, 2026, 8:00 am

লুট হওয়া অস্ত্র সুষ্ঠু ভোটের পথে বড় অন্তরায়

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, January 7, 2026
  • 134 জন দেখেছে

দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় পুলিশের থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে। এখনও ১ হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ভোটের সময় এসব অস্ত্র ভোটকেন্দ্র দখলসহ আরও নানা অপরাধে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার তত বাড়ছে। ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ও যশোরে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। দুটি হত্যাকাণ্ডেই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়। ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে খুনোখুনি, দখল-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভোটে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪-এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের থানা ও ফাঁড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে বিপুল অস্ত্র-গুলি লুট করা হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকেও অস্ত্র গুলি লুট হয়। এ ছাড়া সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের বাসা থেকেও লাইসেন্স করা অস্ত্র-গুলি লুট হয়। এসব লুটের অস্ত্র হাতবদল হয়ে পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে চলে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের হাতে লুটের অস্ত্র রয়েছে। যেসব অস্ত্র সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-দখলবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, পেশি শক্তির প্রদর্শনÑ এমনকি খুনাখুনিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কারণে লুটের অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘লুণ্ঠিত অস্ত্রের বড় অংশই উদ্ধার হয়েছে। এখনও যেসব অস্ত্র উদ্ধারের বাইরে রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। কারও কাছে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কোনো খবর থাকলে তা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র যত বেশি সময় উদ্ধারের বাইরে থাকবে, আইনশৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জও তত বাড়বে। এখনও বড়সংখ্যক অস্ত্র-গুলি উদ্ধার হয়নি। লুট হওয়া অস্ত্র গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার না হওয়া জননিরাপত্তা, নাগরিক নিরাপত্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এর এক ধরনের প্রভাব পড়ার যথেষ্ট শঙ্কা আছে। কারণ, টার্গেট কিলিং বা সংঘাত-সহিংসতায় এ ধরনের উপকরণ দিয়ে পরিস্থিতির ক্ষেত্র তৈরি হয়। এ ধরনের অস্ত্র যত দীর্ঘ সময় উদ্ধারের বাইরে থাকবে ঝুঁকির মাত্রাও তত বাড়বে। তাই অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর