স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: একটি অধ্যায় নিঃশব্দে ইতিহাসে মিলিয়ে গেল, তবে আদর্শ রয়ে গেল অম্লান। গণতন্ত্রের অবিচল প্রতীক, তিনবারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে কোরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মোনাজাত। শোক, শ্রদ্ধা ও প্রার্থনার আবহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উচ্চারিত হয়েছে এক সংগ্রামী জীবনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। আজ শুক্রবার (০২ জানুয়ারি ) জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসস্থ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ আয়োজন করা হয়। দোয়ার নীরবতায় যেন ভেসে ওঠে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি-যেখানে আপস নয়, ছিল দৃঢ়তা, ভীতি নয়, ছিল সাহস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মরহুমার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার অনন্য ভূমিকা এবং জাতির জন্য আজীবন ত্যাগের ইতিহাস। উপাচার্য বলেন, জাতীয় শোকের এই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি ছিলেন মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী এবং গণতন্ত্র রক্ষায় আপসহীন সংগ্রামী নেত্রী। জীবনের নানা নির্যাতন, মামলা ও বঞ্চনা সত্ত্বেও তিনি কখনো দেশ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ ও স্বপ্ন আগামী প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে এবং একদিন শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যাবে-এমন আশাবাদ তিনি ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে বিশেষ দোয়া করেন এবং তার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।
কোরআন খতম শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পেশ ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
দোয়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন), ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান, মসজিদ কমিটির সভাপতি, বিভিন্ন স্কুলের ডিন ও শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক মুসল্লি।
বিশ্লেষকদের মতে, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন-তিনি ছিলেন গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। তার নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিক্রমায় এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার স্মরণে এমন আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস ও আদর্শকে জীবন্ত করে রাখবে।