July 7, 2026, 4:24 am

মুক্তা পানি ও প্লাস্টিক উৎপাদন প্রায় স্থবির, ডিলার সাপ্লাই ব্যাহত অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, November 23, 2025
  • 56 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: গাজীপুরে ‘হাজারো প্রতিবন্ধীর কর্মক্ষেত্র’ শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট- মৈত্রী শিল্পে প্রশাসনিক সংকট ও কর্মচারী-ব্যবস্থাপনা সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। মুক্তা পানি ও প্লাস্টিক উৎপাদন প্রায় স্থবির, ডিলার সাপ্লাই ব্যাহত, কারখানার পরিবেশ উত্তপ্ত- সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন গভীর অনিশ্চয়তায়। নির্বাহী পরিচালক নিরাপত্তাহীনতার কারণে কারখানায় অফিস করা বন্ধ রেখেছেন, অন্যদিকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরখাস্ত করা হয়েছে।
উভয়পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ এখন বড় সংকটে পড়েছে। গাজীপুরের মৈত্রী শিল্পের নির্বাহী পরিচালক কাজী মাহবুব-উর-রহমান বলেন, তার যোগদানের আগে প্রতিষ্ঠানে কোনো উৎপাদন বা বিক্রির টার্গেট ছিল না। প্রতিষ্ঠান এলোমেলোভাবে চলছিল। তিনি বলেন, আমি যোগদানের পর প্রথমবার উৎপাদন-বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করি। মাসে ৫০-৬০ লাখ টাকার বিক্রির টার্গেট নির্ধারণ করি। এতেই একদল কর্মচারী আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি শুরু করে। তিনি আরও বলেন, স্পেশাল অডিট টিমের চিঠি আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। তারা আরও সংগঠিতভাবে বিশৃঙ্খলা শুরু করে, উৎপাদন লাইন ব্যাহত করে এবং প্রশাসনিক কাজে বাধা দেয়। উৎপাদন বন্ধ বিষয়ে তিনি জানান, সম্পূর্ণ বন্ধ না, তবে খুব সীমিত পরিসরে চলছে। বিক্রিও কমে গেছে।
প্রশাসনের পৃথক আদেশে যেসব কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে-কর্মক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, উৎপাদন লাইন বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত করা, ব্যবস্থাপনার নির্দেশ অমান্য, অডিট কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, ভুল তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা, বাইরের ব্যক্তিদের দিয়ে উত্তেজনা ছড়ানো। তবে বরখাস্ত কর্মচারীরা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বরখাস্ত কর্মচারীরা পাল্টা অভিযোগ করে জানান, মিথ্যা অভিযোগে বরখাস্ত, পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন তারা।
কারখানা ব্যবস্থাপক মহসিন আলী বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আমরা ন্যায়বিচারও পাচ্ছি না।
বিক্রয় প্রতিনিধি সালমান শাহরিয়ার জানান, প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন তিনি নিজেই বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন আমাদের কথিত দোষ দেখিয়ে দায় চাপাচ্ছেন। সহকারী কেমিস্ট আসাদুল হক জানান, আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে সমস্যা হচ্ছে। বেতন বন্ধ, চাকরিও নেই। আমরা অসহায়। প্লান্ট সুপারভাইজার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা করিনি। বরং তিনি একতরফাভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরি করেছেন।
সৈয়দ ওসিউর রহমান জানান, আমি প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এখন চরম সংকটে আছি। কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। সব কর্মচারীর বক্তব্য মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে-প্রতিষ্ঠানটি প্রায় বন্ধের দিকে।
অভিযুক্ত কর্মচারীরা জানান, দোষ চাপানো হচ্ছে আমাদের ওপর। নির্বাহী পরিচালক কাজী মাহবুব-উর-রহমান বলেন, অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা থাকে। কারখানায় নিরাপত্তা নেই। তাই এখন মন্ত্রণালয় থেকে অফিস করছি। উৎপাদন-স্থবিরতা, বরখাস্ত অভিযোগ, অডিট তদন্ত, প্রশাসনিক সংঘাত- সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে। দ্রুত সমাধান না মিললে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন, আর্থিক সক্ষমতা এবং বাজার সুনাম বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নির্বাহী পরিচালক আরও জানান, যেসব কর্মচারী সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন তাদের ধাপে ধাপে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর