July 9, 2026, 7:28 am

উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা পূজা পরিষদের

Reporter Name
  • আপডেট Friday, September 26, 2025
  • 70 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সারা দেশে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পূজার দিনগুলোতে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ঢাকায় অন্তত রাত ১১টা পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকার, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের নানা পদক্ষেপে তারা আশ্বস্ত। তাদের সে অর্থে উৎকণ্ঠা নেই। আজ শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পূজা পরিষদের নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার ঢাকায় গতবারের তুলনায় ৭টি বেড়ে মোট ২৫৯টি মন্দির-মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আর সারা দেশে মোট মন্দির-মণ্ডপের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩৫৫টি, যা গতবারের তুলনায় হাজারখানেকের বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব জানান, দুর্গাপূজার প্রস্তুতির মধ্যেই কয়েকটি জেলায় দুর্গাপ্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলাগুলো হচ্ছে- কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, নেত্রকোনা, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, জামালপুর, নাটোর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির এই সভাপতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমাজের অপেক্ষায় আছি- যে সমাজে ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধ পূর্ণিমাসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও সার্বজনীন সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো নির্বিঘ্নে, অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে, কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ও পুলিশি পাহারা ব্যাতিরেকে অনুষ্ঠিত হবে।
লিখিত বক্তব্যে জয়ন্ত দেব সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনে মণ্ডপ ও কমিটিগুলোর প্রতি ২২ দফা নানান নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ‘স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষায়’ আট দফা দাবির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গত রোববার মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে জয়ন্ত দেব বলেন, শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর রোববার মহাষষ্ঠী, সোমবার মহাসপ্তমী, মঙ্গলবার মহাঅষ্টমী, বুধবার মহানবমী অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন। সেদিন বিকেল ৩টায় ঢাকাসহ সারা দেশে বিজয়ার শোভাযাত্রা শুরু হবে।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা এখানে (মন্দিরে) আসেন, যারা সবসময় সম্প্রীতির কথা বলেন, তাদের বলব- আপনারা এই সম্প্রীতির আহ্বান সারা বছরই সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে অব্যাহত রাখুন।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের নির্ধারিত এলাকার সব পূজামন্ডপে নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠক করছে বলেও জানান তিনি। তার প্রত্যাশা, এবার পূজায় আমরা সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই আনন্দের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করব। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- এটার পরিবর্তে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ শীর্ষক অমোঘ বাণী চালু করার কথা জানিয়ে এর মাধ্যমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন সুব্রত চৌধুরী। এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে গজে অর্থাৎ হাতির পিঠে চড়ে। আর দশমীতে দেবী মর্ত্যলোক ছাড়বেন দোলা বা পালকিতে চড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- পূজা উদযাপন পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ, পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, যুগ্ম সম্পাদক গোপাল চন্দ্র দেবনাথ, শুভাশীষ বিশ্বাস সাধন, পদ্মাবতী দেবী, বিপ্লব দে প্রমুখ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর