July 9, 2026, 5:01 pm

রাজধানীর তুরাগে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী হত্যা, স্বামীসহ গ্রেপ্তার দুই

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, September 21, 2025
  • 78 জন দেখেছে

এস.এম বিজয় চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা :: রাজধানীর তুরাগ এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে বিথী আক্তার ওরফে বিলকিস (৩৫) নামে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় স্বামীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তুরাগ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নিহত বিথীর স্বামী মো. বাবুল মিয়া (৪৭) ও তার বন্ধু মো. সম্রাট (২০)। আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টোরোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মুহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে বিথী আক্তার নিখোঁজ হন। তার মা মনোয়ারা বেগম ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তুরাগ থানাধীন রাজউকের ১৭ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠে কাশবনের মধ্যে একজন অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত বিথীর মা মনোয়ারা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন ওই মরদেহ তুরাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি তুরাগ থানায় গিয়ে মরদেহের ছবি দেখে তার মেয়ে বিথীকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা মনোয়ারা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মামলার পর তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানা পুলিশের সহায়তায় মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিথীর স্বামী বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মিরপুর-১২ কালাপানি এলাকা থেকে তার বন্ধু সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেপ্তাররা পারিবারিক কলহের জেরে ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। নিহতের স্বামী বাবুল আমাদের জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় দীর্ঘ ছয় বছর ধরে দাম্পত্য কলহ চলছে। কলহের পেছনে বড় কারণ হচ্ছে তিনি এবং তার স্ত্রী প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা মানুষের কাছ থেকে সুদের ওপরে গ্রহণ করেছেন। এ টাকার অনেক সুদ তাকে দিতে হয়। বাবুল চাকরি করে ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে। তিনি মাসে ৩১ হাজার টাকার মতো বেতন পান। প্রতি মাসে সুদের টাকা দিতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি যখন বাসায় যাচ্ছেন তার স্ত্রী বলেন যে, মানুষ সুদের টাকার জন্য সবসময় আসছে। এতে তিনি ঘুমাতে পারেন না, খেতে পারেন না। সবসময় পাওনাদাররা আসেন তার বাসায়। এটা নিয়ে তার স্ত্রী খুব বকাবকি করেন এবং এসব নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
ডিসি আরও বলেন, গত দুই থেকে তিন মাস আগে বাবুল স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছেন। হত্যার সময় তার সঙ্গে তার চারজন বন্ধু ছিলেন। এর একজন সম্রাট। বাকি দুজনের নামও আমাদের কাছে রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এখন আমরা প্রকাশ করছি না। স্ত্রী হত্যায় যারা তার সঙ্গে ছিল তারা কি ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, এ ঘটনায় সম্রাট ছিলেন বলে বাবুল জানিয়েছেন। বাবুল স্ত্রীকে হত্যার জন্য তাদের ৫০ থেকে এক লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর