আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতে চলমান মোদি সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জনগণ রাজপথে নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
শনিবার কলকাতায় এক সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, “যাকে তাকে বাংলাদেশি বলে পুশ ব্যাক করা হচ্ছে। অথচ তাদের কাছে আধার কার্ড আছে, রেশন কার্ড আছে, জমির দলিল আছে, ব্যাংক কার্ড আছে। এমনকি ভোটার আইডিও আছে। আমাদের কিছু না জানিয়ে এভাবে মানুষকে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা এক ভয়ংকর অন্যায়।” মমতা আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি দেড় কোটি বাংলাভাষীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তিনি এটিকে “গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত” আখ্যায়িত করে বলেন, “এই পরিকল্পনা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা ভারতবর্ষে অস্থিরতা তৈরি করছে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাগরিকত্ব ইস্যু ও নানান বৈষম্যমূলক নীতির কারণে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষক আন্দোলনের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই এবার নাগরিক পরিচয় ও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রশ্নে আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে রাজধানী দিল্লিসহ মুম্বাই, ব্যাঙ্গালুরু, কলকাতা ও আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনে শ্রমজীবী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এ আন্দোলন যদি আরও জোরদার হয়, তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা শুরু হয়েছে।