আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিপুল ভোটে পাস হলো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সদস্য দেশগুলোর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভোট দেয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা স্বাধীনতার দাবিতে নতুন আশার আলো দেখতে পেল ফিলিস্তিনি জনগণ। জাতিসংঘের এই ভোটে প্রস্তাবের পক্ষে বিপুল সমর্থন মিললেও কিছু পশ্চিমা শক্তি এর বিরোধিতা করে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে প্রস্তাবটি পাস হওয়ায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এটি এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দখলদারিত্বের অবসান ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ সুগম করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতিসংঘের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কারণ ইসরায়েল ও তার মিত্রশক্তি এখনো এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিরা এ সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের ভাষ্য, “এটি শুধু আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নকে শক্তিশালী করলো না, বরং বিশ্ববাসীর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকেও নতুনভাবে প্রকাশ করলো।”
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাবকে একপাক্ষিক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। জাতিসংঘের এই প্রস্তাব পাসের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিন প্রশ্নে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে—এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কিভাবে কার্যকর হয়।