এস.এম বিজয় চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা :: রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছে-রাজধানীর খিলক্ষেত নামাপাড়া তালেরটেক এলাকার মৃত মুরাদ আলী খানের ছেলে মো. জাবেদ আলম পাস (৬১) এবং তাঁর দুই ভাগ্নে ঢাকার কোতয়ালীর আহসান উল্লাহ রোডের খাজা ওবায়দুল হকের ছেলে খাজা নাইসুল হক (৩৪) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার পুরাতন হাউজিং কলোনী এলাকার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের ছেলে ফাহিম উদ্দিন বিন আহমেদ (২২)। খাজা নাইসুল হক ও ফাহিম উদ্দিন বিন আহমেদ সম্পর্কে খালাতো ভাই। খবর পেয়ে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে (ঢাকা মেট্রো ট-১৪-৭৮৯৮) নম্বরের একটি ট্রাক জব্দ করে এবং ট্রাকসহ চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে-সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কেলুটিয়া গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে চালক মো. রাকিবুল (২৭) এবং একই উপজেলার বেলুটিয়া গ্রামের মো. রেজাউলের ছেলে হেলপার মো. সুমন (২০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরার আজমপুর মোড়ে তিনজন গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন আর কথা বলছিলেন। ওই সময় গাজীপুর থেকে আজমপুরের সড়কের দিকে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়। একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় স্থানীয়রা চালক ও হেলপারকে ট্রাকসহ আটক করে উত্তরাপূর্ব থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, নিহতরা রোগী দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে আজমপুরে এসে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। এসময় ওই ট্রাকটি তাঁদের চাপা দেয়। পরে ঘটনাস্থলেই খাজা নাইসুল হক ও ফাহিম উদ্দিন বিন আহমেদ মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে জাবেদ আলম পাসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চালক রাকিবুল ও হেলপার সুমনকে ট্রাকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।