July 9, 2026, 12:27 pm

জনতা ব্যাংক থেকে ৮৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, June 3, 2025
  • 138 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: জনতা ব্যাংক থেকে ৮৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে এননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউনুছ বাদলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা দায়ের করেছে। আজ মঙ্গলবার (৩ জুন) ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এননটেক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এফ কে নিট টেক্স লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে মোট ৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঋণ অনুমোদন, বিতরণ এবং পরবর্তীকালে অর্থ আত্মসাতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এ অর্থ আদৌ প্রকৃত ব্যবসায় ব্যবহৃত হয়নি এবং মূলত তা পরিকল্পিতভাবে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল।
মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁরা হলেন:
মো. ইউনুছ বাদল—চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এননটেক্স গ্রুপ
আনোয়ারুল ইসলাম ফেরদৌস—ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এফ কে নিট টেক্স লিমিটেড
আব্দুছ ছালাম আজাদ—জনতা ব্যাংকের ঢাকার করপোরেট শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপক
আজমুল হক—সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম), জনতা ব্যাংক
অজয় কুমার ঘোষ—সাবেক ফার্স্ট এজিএম
মো. শাহজাহান—জনতা ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর)
তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ব্যাংকের আর্থিক নিরাপত্তাবিধান উপেক্ষা করে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই, কাগুজে প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ঋণ মঞ্জুর করে তা আত্মসাতের পথ সুগম করেন। বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ঋণ জালিয়াতির ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে এননটেক্স গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে জনতা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয় এবং একাধিকবার তা খেলাপি হয়।
ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অসাধু উপায়, রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং খাতের একটি বড় সংকটের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এই ঘটনায় এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিক তদন্ত শুরু করে এবং কয়েকটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, এননটেক্স গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। প্রতিটি অভিযোগের যথাযথ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক বলেন, ‘যারা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে জনসম্পদ লুট করেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর