July 9, 2026, 8:45 am

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা

Reporter Name
  • আপডেট Friday, May 30, 2025
  • 81 জন দেখেছে

মো: মুর্শিকুল আলম:: বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদুল আজহা। এই উৎসবকে সামনে রেখে গাজীপুরসহ মহানগরীর প্রতিটি এলাকায় কামাররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। কুরবানির ঈদে গরু, ছাগল, মহিষ জবাই ও গোশত কাটতে ব্যবহৃত হয় দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি।
মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টঙ্গীবাজার, মিলগেট, টিএন্ডটি বাজার, পাগাড়, নতুন বাজার, কামারপাড়া, মুদাফা মন্ডল মার্কেট, বড় দেওড়া, চেরাগআলী, দত্তপাড়া, বনমালা, আউচপাড়া, সাতাইশ, গাজীপুরা, বোর্ড বাজার, হোসেন মার্কেট, বড় বাড়ি, জয়দেবপুর, কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর এলাকায় কামাররা বিভিন্ন পশু জবাই কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন। দগদগে লাল লোহাকে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি। এইসব যন্ত্র¿ তৈরি করার সময় লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দে মুখর পুরো এলাকা। এর সঙ্গে চলছে পুরোনো দা-বঁটি ও ছুরিতে শান দেওয়ার কাজ।
সকাল থেকে শুরু করে সারাদিন এইসব কাজ করছেন তারা। অন্যান্য সময় তেমন কোন কাজ না থাকলেও কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা বেড়ে যায় তাদের। পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতে লোকজন ভিড় করছেন কামারিদের দোকানে। আগে যেসব দোকানে দুজন করে শ্রমিক কাজ করত, এখন সেসব দোকানে ৫-৬ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোরবানির ঈদ আসলে কামাররা দা, চাপাতি ও ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বাড়িয়ে দেন। ছুরি শান দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কামাররা বলেন, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে লোহা, কয়লা ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় তাদের তৈরি মালের দাম একটু বেশি। চায়নাদের তৈরি বিভিন্ন মালামাল বাজারে আসার কারণে ব্যবসায় কিছুটা মন্দা নেমে এসেছে। আমাদের একটা চাপাতি তৈরি করতে যেখানে খরচ হয় ১ হাজার টাকা থেকে ১৫০০ টাকা। সেখানে চায়না চাপাতি কিনতে পাওয়া যায় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এরপর ঈদ মৌসুম এলেই লোহা ও কয়লার দাম ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পায়। তাই আমাদের এখন মাল তৈরি করে পোষায় না। আবার অনেক সময় টাকা থাকে না তখন বড় বড় পাইকারদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে কাঁচামাল কিনে দা, বঁটি, ছুরি বানিয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, দা ছোট ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা, বঁটি বড় ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, চাপাতি ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তৈরি মাল সব বিক্রি না হলে পরে এগুলো হার্ডওয়্যারের দোকানে বিক্রি করে দেন।
টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকার কামার জসিম জানান, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে আমাদের বিক্রি ততই বাড়ছে। সারা বছর এই কাজের চাপ থাকে না। যা লাভ হয় এই ঈদ মৌসুমেই।
কামারের দোকানে চাপাতি বানাতে আসা মো: জামাল বলেন, আর কিছুদিন পর কুরবানির ঈদ, আগে-বাগেই গরু জবাই করার সরঞ্জাম বানাতে কামারের দোকানে এসেছি। আমি প্রতি বছরই কিছু না কিছু দা, বঁটি কিনে নিয়ে যাই। কারণ কুরবানির ঈদের পরে আর কেউ এগুলোর খবর রাখে না। তাই খোঁজাখুঁজি না করে নতুন কিনে নিয়ে যাই।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর