নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মিজানের সহযোগী মিল্লাতসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি এবং দেশে তৈরি বিভিন্ন অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী মিজান গ্রুপ আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ গ্রুপের প্রতিদ্বন্দ্বী। চাঁদাবাজির আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যে পুরনো দ্বন্দ্ব রয়েছে।
আজ সোমবার (৩ মার্চ) দুপুরে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার আমিনুল ইসলাম। এরআগে রোববার (২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ওয়াজেদিয়া মাদ্রাসার পাশে একটি পরিত্যাক্ত ভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন-মোহাম্মদ মিল্লাত (২৪), মোহাম্মদ আবুল হাসনাত ফাহিম (২০) এবং মো. রুবেল (২৬)। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
উপ-কমিশনার আমিনুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী মিজানের সহযোগী মিল্লাতসহ তিনজনকে দুটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ছাড়াও ৯ রাউন্ড গুলি, দুটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, একটি হাঁসুয়া, একটি ধারালো ছুরি, দুটি কেঁচি, পাঁচটি মোবাইল, একটি পাওয়ার ব্যাংক, ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। তারা মূলত ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও জায়গা দখল সংক্রান্ত আধিপত্য বিস্তার এবং ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি প্রস্তুতি এবং মাদক আইনে তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সাজ্জাদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা ছিল। সেজন্য মোট ১৬ জনের শক্ত অভিযানিক টিম আমরা গঠন করেছিলাম। সন্ত্রাসীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব সংঘাত হয়ে থাকে। সাজ্জাদের সাথেও মিজানে গ্রুপের এরকম দ্বন্দ্ব ছিল। আমরা অভিযান চালানোর পর মিজান সেখান থেকে পালিয়ে যায়।’
বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের সাথে আসামিদের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্ধ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক পৃথক তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।