এস.এম বিজয় চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পূর্ব থানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে পুলিশের গাড়িসহ থানার বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এ ঘটনার পর নাগরিকদের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে থানা পুলিশের অনেক কষ্ট হচ্ছে। থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন মামলার প্রায় সব আলামত নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, থানার একটি কক্ষের এক কোণে একটি টেবিল বসিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান থানায় আসা লোকজনের সেবাকার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বর্তমানে থানার পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সপ্তাহ খানেক হলো আমি দায়িত্ব পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা সরিয়ে নতুন করে থানা অবকাঠামোগুলো ঠিক করা প্রায় শেষ। এখনো নির্দিষ্ট রুমে বসতে পারিনি। তবু এখানে বসে সেবা দিচ্ছি। যাঁরা আসছেন, সবাইকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। আজ রবিবার থেকে পুলিশের নির্দিষ্ট পোশাক এবং অস্ত্রে আগের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন পুলিশ সদস্যরা।
থানার সামনে গিয়ে দেখা যায় আন্দোলনের সময় ভাঙচুর ও আগুনে পোড়ানো কয়েকটি গাড়ি এখনো পড়ে আছে। থানার নামফলক এখনো সংস্কার করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে দেখা গেছে। ভেতরে বিভিন্ন রুমে মেরামতে কাজ চলছে। কোন কক্ষে কোন কর্মকর্তা রয়েছেন এবং এখনো নামফলক না দেওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে।
গত ১৯জুলাই উত্তরা আজমপুর রেলস্টেশন এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছররা গুলি লাগে মাদরাসার শিক্ষার্থী ফখরুল ইসলামের। আলামত হিসেবে কাগজের মোড়কে করে নিয়ে এসেছে শরীর থেকে বের করা চারটি ছররা গুলি। এ সময় তিনি বলেন, এখনো তার মাথায় কয়েকটি গুলি রয়ে গেছে। ওই সময় থানায় অভিযোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। এখন এসেছে গুলির ঘটনায় থানায় মামলা করতে। সঙ্গে মা-বাবা এবং একজন স্বজন। পুলিশ কমর্র্কতার জন্য অপেক্ষা করছেন। শনিবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পূর্ব থানার একটি কক্ষে ফখরুলের সঙ্গে কথা হয়।
ফখরুলের বাবা মোখলেছুর রহমান বলেন, যারা ফখরুলের মতো অনেককে গুলি করেছে, সেই ঘাতকদের বিচার চান তাঁরা। আর কেউ যেন ছাত্রদের ওপর এভাবে নির্বিচারে গুলি ছুড়ে জখম-হত্যার মতো ঘটনা ঘটাতে না পারে। কাদের আসামি করা হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা ঘটনায় জড়িত কিংবা মদদাতা, তাদেরকেই আসামি করা হবে। তাদের সঙ্গে আলাপকালে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য ওই কক্ষে আসেন এবং তাদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শুধু ফখরুল নন, তার মতো আরো অনেকে এখন থানায় অভিযোগ বা মামলা দিতে আসছেন, যারা গত আন্দোলনের সময় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।