নিজস্ব প্রতিবেদক :: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ তিনদিনের সফরে দিল্লি গিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে সেখানে গেলেন তিনি। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে দিল্লিতে পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আজ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন হাছান মাহমুদ। সেখানে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা বাণিজ্য, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ছাড়াও মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন তারা। অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক বিষয়েও মতবিনিময় করা হবে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, জয়শঙ্করের পাশাপাশি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোবালের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো সফরের আলোচনায় থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আর সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মিয়ানমার ইস্যুতে আমরা আগেও ভারতের সহযোগিতা চেয়েছি, এবারেও এই বিষয়ে আলোচনাটা স্বাভাবিক।
সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। এছাড়া, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ছাড়াও বিজেপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন।
জানা গেছে, হাছান মাহমুদ ঢাকা থেকে সরাসরি দিল্লি গেলেও ফিরবেন কলকাতা হয়ে। কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এবং অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কলকাতা থেকে ঢাকা ফিরবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের দিল্লী সফর নিয়ে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে সামনে আরো জোরদার করা এবং ভবিষ্যত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কোশলগত পরিকল্পনা ঠিক করা এই সফরের প্রধান লক্ষ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংযোগের ব্যাপারে ভারত-বাংলাদেশ যে কাজ করেছে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে এই সফরে। পাশাপাশি ভবিষ্যত সহযোগিতার পরিকল্পনা নিয়েও এই সফরে আলোচনা করা হবে।’