July 9, 2026, 12:16 am

আন্দোলনকারী বা পুলিশ কারোরই অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ উচিত না : প্রধান বিচারপতি

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, November 18, 2023
  • 90 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, ‘রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে একে অপরের প্রতি সহনশীল হতে হবে।’ আজ শনিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্যানেল আইনজীবীদের কর্মশালা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে রাজধানীর কৃষিবিদ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি।
উদ্বোধনের পর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের যেমন মানবাধিকার রয়েছে তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশেরও মানবাধিকার রয়েছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করলে যেমন মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়, ঠিক তেমনি পুলিশের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করলে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়। তাই আন্দোলনকারী বা পুলিশ, কারোরই অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা উচিত না। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে কোনো দিন মানুষ একটি সুন্দর সমাজ পাবে না।
ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘মৌলিক অধিকার আর মানবাধিকারের পার্থক্য রয়েছে। মৌলিক অধিকার একেক দেশে একেক রকম। কিন্তু মানবাধিকার সারা বিশ্বে একই রকম। প্রাচীনকাল থেকে আমাদের দেশে মানবাধিকারের ধারণা নানা মাত্রায় বিকশিত হয়েছে।
মানবাধিকার প্রয়োগ হয় আইন প্রয়োগের মাধ্যমে।’
মানবাধিকার রক্ষায় আইনজীবীদের ভূমিকা বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার প্রার্থীদের পাশে দাঁড়ালে মনে রাখবেন আপনি মানবাধিকারকর্মী। নিজ পেশার প্রতি, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ হোন। হাজতবাসীদের জন্য খাবারের বাজেট আছে কি না, দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাগারে যারা আছেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালে মানসিক রোগী না হয়েও যারা আটক আছেন তাদের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করুন।’
আসামিদের ডান্ডাবেড়ি পরানোর বিষয়ে ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘আদালতের অনুমতি নিয়ে শুধু ভয়ংকর আসামিদের ডান্ডাবেড়ি পরানোর কথা আমরা একটি রায়ে বলে দিয়েছি। কারণ ডান্ডাবেড়ি পরানোর আইন না থাকার কারণে কিছুদিন আগে আদালত থেকে আসামিদের পালিয়ে যেতে দেখেছেন।’
গত ১৬ নভেম্বর ২৭ জন আইনজীবীকে ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেটশিপ’ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নতুন তালিকাভুক্ত ২৭ আইনজীবীকে প্রথমবারের মতো সনদও দেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দায়িত্ব-কর্তব্য, দায়বদ্ধতা নিয়ে বিচার বিভাগের প্রধান বলেন, ‘আমি প্রায়ই এই কথা বলে থাকি, যে দিতে পারে সে নিতেও পারে। আমরা যেহেতু সিনিয়র অ্যাডভোকেটশিপ কনফার্ম করি। আমরা রিভিউ করে সিনিয়র অ্যাডভোকেটশিপ ক্যান্সেলও করতে পারব। আমার মনে হয় এই প্রভিশনটা (বিধান) থাকা উচিত। এটি আলোচনা করে আমরা ঠিক করব। কারণ এটা লাগামহীনভাবে চলতে পারে না। সিনিয়র অ্যাডভোকেটশিপ দিয়ে দিলাম আর তিনি কিছুই করলেন না, তার কোনো রেকর্ডই নাই রিভিউ মামলা করার, এটা তো হতে পারে না।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সভাপতির বক্তব্যে কামাল উদ্দিন আহমেদ কমিশনের নানা উদ্যোগ, কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা। ভুক্তোভোগীদের বিচার প্রাপ্তির পথ সহজ ও সুগম করতে দেশের ৬৪টি জেলার প্রায় ২৫০ জন আইনজীবীর সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর