স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: সরকার পতনের একদফা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বিএনপির নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। একাধিক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকেই লুকোচুরি খেলার মতো দলীয় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার দুটি মামলার ৩ শতাধিক আসামির মধ্যে ৭২ নেতাকর্মীকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরাও গ্রেফতার আতঙ্কে গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। আর ঝামেলা পোহাচ্ছে তাদের পরিবার পরিজন। বেশি বেকায়দায় আছেন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। পুলিশের ভয়ে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীই কাজও করতে পারছে না, ঘরেও থাকতে পারছেন না বলে তাদের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ, পুলিশ নিহত হওয়া ও অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে মামলা ও ধরপাকড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ফলে অবরোধ কর্মসূচিতে মাঝে মধ্যে ঝটিকা মিছিল ও মশাল মিছিল করলেও প্রকাশ্যে রাজপথে নেই তারা।
অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির প্রথমসারির কিছু নেতা অদৃশ্য ইশারায় মামলা থেকে রেহাই পেলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির কয়েকশ নেতাকর্মী মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ আবার রাজনৈতিক গ্রেফতারের আওতায় এসে জেলখানায় বন্দি রয়েছেন। এসব কারণে অনেক দরিদ্র ও ত্যাগী নেতাদের পরিবারে নেমে এসেছে অভাব অনটন। আর যারা বিএনপির শাসনামলের দলের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন তারা আন্দোলন তো দূরের কথা দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কিংবা কোনো প্রকার যোগাযোগও রাখছেন না।
গ্রেফতার হওয়া ওয়ার্ড বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি গ্রেফতারের পরে বিপাকে পড়েছে তার পরিবার। ধারদেনা করে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
পালিয়ে থাকা টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মণ্ডল জানান, থানায় মামলার আসামি করা ও অব্যাহত ধরপাকড়ে পুলিশকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তার দাবি, বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুলিশ চেনার কথা না।
গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিরণ জানান, গ্রেফতার এড়াতে তাকে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় একাধিক মিথ্যা মামলা নিয়ে পুলিশের ভয়ে আত্মগোপন করেও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের আহবায়ক আকবর হোসেন ফারুক বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ৩৭টি মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বসতে পারছি না। মিথ্যা মামলা ও হামলা করে সরকার পতনের আন্দোলন থামানো যাবে না।
টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহম্মেদ সুমন বলেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বিএনপির চলমান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে টঙ্গীতে অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। আবার অনেকে একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে গ্রেফতার এড়িয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ফলে দলীয় নেতাকর্মীরা মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আওয়ামী দুঃশাসনে লুটপাট সন্ত্রাসে সামাজিক পরিবেশ চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (টঙ্গী জোন) মেহেদী হাসান দিপু বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা মামলা হয়নি। যা হয়েছে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলায় হাতেনাতে ধৃতসহ বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে।