September 2, 2026, 11:33 am

২৩তম বর্ষপূর্তি ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ উদ্‌যাপন

Reporter Name
  • আপডেট Tuesday, September 1, 2026
  • 18 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (ডুয়েট) দেশের শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল। আজ মঙ্গলবার ‘ঐক্যের বন্ধনে অটুট ডুয়েট’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম বর্ষপূর্তি ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত দুই যুগ ধরে একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণা বিস্তারে ভূমিকা রেখে চলছে ডুয়েট। যুগোপযোগী টেকসই উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠতম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্বদরবারে জ্ঞানে, দক্ষতায় ও মানবতায় অনন্য করে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাকিল পারভেজ অডিটরিয়ামে গবেষণাকর্মে উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষকদের ‘একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
এ সময় উপাচার্য বলেন, ডুয়েটের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচনের প্রয়াসে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা নামে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত বিআইটি, ঢাকা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর নামে আত্মপ্রকাশ করে।
উপাচার্য আরও বলেন, প্রতিবছর ডুয়েট থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন। দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও তাঁরা নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের সুনাম বয়ে আনছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রকৌশল ডিপ্লোমাধারীদের একমাত্র স্বপ্নের ঠিকানা। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল এই যুগে ডুয়েট শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও নৈতিকতার সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আকরামুল আলম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামাল-আল-হাসান, পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজ আলম।
দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আয়োজনের মধ্যে ছিল শিক্ষক বনাম ডুয়েট অ্যালামনাই রশি টানাটানি ও প্রীতি ভলিবল ম্যাচ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ডুয়েট বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্মৃতিচারণা এবং বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর