June 11, 2026, 1:00 am

সংস্কৃতিতে কেউ শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট নয়: সংস্কৃতিমন্ত্রী

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, June 10, 2026
  • 14 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, কোনো সংস্কৃতি বা সভ্যতা একে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট নয়, বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। আজ বুধবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস এবং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চীন অ্যালামনাইয়ের যৌথ উদ্যোগে এক বিশেষ বৈশ্বিক সেমিনার ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ভুল-বোঝাবুঝি, দূরত্ব এবং সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার মানসিকতা বিশ্বজুড়ে ফাটল সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস বিশ্ববাসীকে এই স্পষ্ট বার্তা দেয় যে সভ্যতার মধ্যে কোনো সংঘাত নেই; বরং পারস্পরিক মেলবন্ধন ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে মানবসভ্যতা এগিয়ে যায়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সব সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুমাত্রিক ও জাতীয়তাবাদী দর্শনের আলোকে সমৃদ্ধ উন্নয়ন সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। এ লক্ষ্যে গণচীনের রাষ্ট্রপতি সি চিন পিং প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ-জিসিআইকে বাংলাদেশ অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। উদ্যোগটি সভ্যতার বৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের মেলবন্ধনকে অগ্রাধিকার দেয়, যা আমাদের নিজস্ব উন্নয়ন রূপরেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা সংঘাতের বদলে সহযোগিতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার চেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিকে বেছে নিই।’
বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ কোনো নতুন পরিচিত বন্ধু নয়। নদী, পাহাড় এবং হাজার বছরের অংশীদারত্বের ইতিহাস আমাদের যুক্ত করে রেখেছে। প্রাচীন সিল্ক রোড থেকে শুরু করে মহৎ বৌদ্ধ ভিক্ষু অতীশ দীপঙ্করের আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান দুই দেশের গভীর সম্পর্কের চিরন্তন স্মারক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী চীন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মেলবন্ধন, প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য এবং চিত্রকর্মের ওপর আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় অতিথিরা ঐতিহ্যবাহী চীনা ক্যালিগ্রাফি এবং বই প্রদর্শনী দেখেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর