মো: মুর্শিকুল আলম:: পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, গাজীপুর ও চিটাগাং হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন। সেটাকে যদি আমরা ঠিক রাখতে না পারি; তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান, শান্তি, সমৃদ্ধি, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থাসহ কোনো কিছুই আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব না। শনিবার বিকালে গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনে মহানগর পুলিশ আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, শুধু যানজটের কারণে ঢাকা শহরে প্রতিদিন সরকারের ১৪০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে এবং বছরে তার পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও মরণব্যাধি মাদক আমাদের তরুণ সমাজকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এর ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
আইজিপি বলেন, আমাদের দেশের একটি অংশ কোন কিছু হলেই রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেন। এর ফলে যানজট সমস্যা তৈরি হয় এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের দেশের ৯৯ পার্সেন্ট শ্রমিক নিরীহ। তারা মাস শেষে বেতন পেলেই খুশি থাকে। কিন্তু ওয়ান পার্সেন্ট লোক দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর থাকে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি বলেন, দেশে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, যানজটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এগুলো কিন্তু একদিনে সৃষ্টি হয়নি, এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে। একটি ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, সে কারণেই কিন্তু এ সমস্যাগুলো ঘনীভূত হয়েছিল। শুধু গাজীপুর নয়, সারাদেশে যুবসমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দিয়েছিল তারা। যুব সমাজকে ধ্বংস করতেই পরিকল্পিতভাবে তারা এই কাজটি করেছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে অন্য দেশের সিলেবাসকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিল তারা।
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আহম্মেদ হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার, সালাউদ্দিন সরকার, আহমেদ আলী রুশদি, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দীন, সদর মেট্রো থানা বিএনপির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান এলিস প্রমুখ।