এস.এম বিজয় চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, উত্তরা :: রাজধানীর উত্তরা ‘কম্বে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ নাম একটি মদের বারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানকালে ৫৭ নারীসহ ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে সেখান থেকে কোনো মদ-বিয়ার জব্দ করা হয়নি। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ময়লার মোড় সংলগ্ন ওই মদের বারে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, সোনারগাঁও জনপথ রোডের বারের ভবনটির তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রেস্টুরেন্টের অন্তরালে মদের বারের কার্যক্রম চলে আসছিল। সেখানে শুধু মদই নয়, বারে আসা কাস্টমারদের বিনোদনের জন্য নারীও ছিল। এ ছাড়াও ওই নারীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে সময় কাটানোর জন্য পঞ্চম তলায় বেশ কয়েকটি রুমেরও ব্যবস্থা ছিল।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ। এছাড়াও অভিযানে অংশ নেন উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ, সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
সূত্রে জানা যায়, ওই বারটি উত্তরায় পরিচালনার কোনো অনুমতি নেই। এ ছাড়াও পর্যটন করপোরেশন ব্যতীত অবৈধ উপায়ে আসা মদ ক্রয়-বিক্রয় করত। রাতের আঁধারে রঙিন আলোয় গভীর রাত পর্যন্ত চলত অর্ধনগ্ন নৃত্য। উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অবাধ যাতায়াত ছিল।
অভিযান প্রসঙ্গে উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, কিশোরগ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান শুরু করেছি। কম্বে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে অভিযান চালিয়ে আমরা ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। সবাইকে নিয়ে পুরো দেশকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা সাংবাদিকদেরসহ দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। আশা করি অচিরেই আমরা ভালো কিছু দেখতে পাবো। পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমি একটি কঠোর বার্তা দিতে চাইÑ জিরো টলারেন্স নয়, অ্যাকশন চলবেই। পুলিশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি শাসন হবে আমার শেষ কথা।
এসময় উত্তরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আরিফুল ইসলাম, উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুজ্জামান, পরিদর্শক (অপারেশন) মো. নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।