আব্দুল কাদের, টঙ্গী :: ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আজ দ্বিতীয় দিন। লাখ লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে ময়দানে চলছে বুজুর্গ আলেমে মাওলানাদের বয়ান। বয়ান চলবে আগামীকাল রবিবার আগেরী মোনাজাতের আগ পর্যন্ত। বয়ানে মশগুল হয়ে আমল করছেন ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা। আজ শনিবার বাদ ফজর বয়ান করেন পাকিস্থানের মাওলানা খোরশেদ। বয়ানের পাশাপাশি প্রতিটি খিত্তায় খিত্তায় তালিম হয়। ওলামাদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা ও তলাবাদের (মাদ্রাসার ছাত্রদের) উদ্দেশ্যে নামাজের মিম্বরে বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আকবর শরিফ। এসময় লাখো মুসল্লী বয়ান শ্রবণ ও নিজ নিজ ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন। ইজতেমায় অংশ নেওয়া মুসল্লিদের উদ্দেশে তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মুরব্বিরা মূল মঞ্চ থেকে পর্যায়ক্রমে কোরআন-হাদিসের আলোকে ঈমান, আমল, আখলাক ও কালেমা সম্পর্কে বয়ান পেশ করছেন।
বাদ যোহর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইসমাঈল গোদরা সাহেব, বাদ আসর বয়ান করবেন ভাতের মাওলানা জুহায়ের। এরপর অনুষ্ঠিত হবে যৌতুকবিহীন বিয়ে। বাদ মাগরিব বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা। আগামীকাল রবিবার বাদ ফজর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান। এরপর আখেরি মোনাজাতের পূর্বে হবে হেদায়েতি বয়ান। এ বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা। এরপর আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন শুরায়ে নেজামের শীর্ষ মুরুব্বী বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের। শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ব ইজতেমায় ইয়াকুব আলী (৬০) নামে আরও এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইজতেমা ময়দানে অসুস্থ হয়ে ওই মুসল্লির মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইজতেমার গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। নিহত ওই মুসল্লি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার রাধবপুর গ্রামের নওয়াব উল্লাহর ছেলে। এর আগে শুক্রবার সারাদিনে আব্দুল কুদ্দুস গাজী (৬০), ছাবেদ আলী (৭০) ও আমিরুল ইসলাম (৪০) মারা যান। এ নিয়ে ইজতেমায় চার মুসল্লির মৃত্যু হয়।
অপরদিকে আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান ইজতেমা ময়দানে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের কাছে সাংবাদিকদের এক প্রেস ব্রিফিং করেন। ব্রিফিংএ তিনি বলেন, আগামীকাল রবিবার সকাল ৯টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
ইজতেমাকে নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায় তারা বিভ্রান্তি ছড়াতে পারছে না। আখেরি মোনাজাতের আগে সকাল ৬টা থেকে ঢাকার ৩০০ ফিটের মাথায়, ধওর ব্রিজের মাথায় এবং ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে ইজতেমাগামী সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। ইজতেমা ময়দানের মুসল্লিরা ময়দান ত্যাগ করার পর সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় কোনো প্রকার নিরাপত্তার শঙ্কাবোধ করা হচ্ছে না। আমরা মুসল্লিদের সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। ইজতেমা কর্তৃপক্ষ বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দিয়েছে। তারাও নিরাপত্তার দিকটি দেখছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই ইজতেমার প্রথম পর্বটি সম্পন্ন হবে। এ সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ তাবলীগ জামাত শুরায়ে নেজামের অধীনে আগামী ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব-ইজতেমার প্রথম ধাপ। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে। ৮ দিন বিরতি দিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ধাপের বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করবেন সাদ অনুসারীরা। ১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমা। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি বাদ মাগরিব প্রশাসনের নিকট ময়দান বুঝিয়ে দেবেন সাদ অনুসারীরা।