স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তুরাগ নদের পানি বিপৎসীমা ছুঁয়েছে। এতে নদীভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদের তীরবর্তী হাজারো মানুষ। পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় ঝুঁকিতে পড়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কোটি টাকার মাছের খামার। আজ সোমবার বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর সেতুর নিচে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থাপিত সেন্টিমিটার স্কেলে নির্ধারিত ১৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, গত তিনদিনের তুলনায় আজ তুরাগ নদের পানি অনেকটাই বেশি। তীব্র স্রোত বইছে নদীজুড়ে। এতে ভাঙনের হুমকিতে পড়ছে বিভিন্ন এলাকার সড়ক, নদের তীরে অবস্থিত ঘড়বাড়ি, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা। সবচেয়ে বড় হুমকিতে উপজেলার বড়ইবাড়ী, কুন্দাঘাটা, মদনখালী, বোয়ালী, চাবাগান, গলাচিপাসহ তীরবর্তী কয়েকটি এলাকার মৎস্যচাষিরা। কোটি কোটি টাকার মাছের খামারের বাঁধ অতি বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় এসব খামার।
উপজেলার মদনখালী এলাকার মৎস্যচাষি আবু হোসেন বলেন, প্রতিদিন পানি বাড়ছে। আমাদের মাছের খামার হুমকির মুখে। আমরা নদের তীরবর্তী বাঁধ জাল দিয়ে আটকে রেখেছি। কিন্তু পানি আরও বাড়লে ও স্রোত বাড়লে আমাদের খামার ভেঙে যাবে। গর্জনখালি এলাকার মৎস্যচাষি সবুজ মিয়া বলেন, প্রায় ৫০ লাখ টাকার মাছ আছে পুকুরে। সারাদিন লোকজন নিয়ে জাল দিয়ে বেড়া দিচ্ছি। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধিতে আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে।
বড়ইবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বসতবাড়ির ভিটা ভেঙে নদে যাচ্ছে। এবারও যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে আবার ভাঙন শুরু হবে।এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা ও কালিয়াকৈর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি। কালিয়াকৈর উপজেলার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে, কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, সব স্থানেই পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কালিয়াকৈর উপজেলার কোথাও যদি প্লাবিত হয় বা বন্যায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের একটি তালিকা করে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহায়তা করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে সতর্ক করছি। যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। এছাড়াও বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ে, পানিবাহিত রোগে অনেকেই আক্রান্ত হয়। যারা এমন ঘটনার শিকার হবে তাদের দ্রুত কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তির জন্য বলা হচ্ছে।