নিজস্ব প্রতিবেদক :: বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গেছে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, কারা বাদ পড়লেন আর নতুন কারা ঢুকছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিদায়ী সরকারের ৫ বছর মেয়াদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা জাহিদ আহসান রাসেল এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাবেক হয়ে যাবেন বাদপড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
জাহিদ আহসান রাসেল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বৃহস্পতিবার শেষবারের মতো এসেছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এসএসসি)। প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক বিতরণ এবং জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ২০২৩ চূড়ান্তকরণের সভায় যোগ দিতে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারে গিয়েছিলেন। যে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানও তিনি।
বিদায়বেলায় মো. জাহিদ আহসান রাসেল তার সময়ে ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। করোনার কারণে প্রায় দুই বছর তিনি ঠিকভাবে কাজ করতে পারেননি সেটাও উল্লেখ করেছেন। যাওয়ার সময় তিনি অনুধাবন করেছেন, ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণখাতে বরাদ্দ আরও বৃদ্ধির দরকার ছিল। নতুন যিনি আসবেন তিনি এ বিষয়টি দেখবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সন্ধ্যার পর তিনি জেনে যাবেন, তার চেয়ারে কে বসতে যাচ্ছেন। যিনিই এ দায়িত্ব পাক তাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বিদায়ী ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘আমি ক্রীড়ার উন্নয়নে বিশ্বাসী। যিনি এই পদে আসবেন তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। তিনি না চাইলেও চেষ্টা করবো নিজ উদ্যোগে সহযোগিতা করার।’
২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। ৫ বছর ৪ দিন পর তিনি শেষবারের মতো অফিস করলেন এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে।
মো. জাহিদ আহসান রাসেল দীর্ঘ সময় সম্পৃক্ত ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৯ থেকে টানা দুই মেয়াদে। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দায়িত্ব দেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।
অনেকের ধারণা ছিল মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবার প্রমোশন পেয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হবেন। তবে শেষ পর্যন্ত বাদ পড়াদের তালিকায় ঢুকে গেছে তার নাম। তার সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা, প্রায় আড়াই বছর খেলা নেই দেশের প্রধান ক্রীড়া ভেন্যু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়াম সংস্কারের নামে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে দেশের ফুটবলে।