নিজস্ব প্রতিবেদক :: আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোট কেন্দ্র ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটদানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সারাদেশে ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৪৩ জন সদস্য মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। আজ শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের ৪২ হাজার ১৪৯টি ভোট কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা রক্ষায় ৫ লাখ ৫ হাজার ৭৮৮ জন সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে, আগে থেকে রেলওয়ে ও কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা আলাদাভাবে নিয়োজিত থাকবেন।’
মহাপরিচালক বলেন, ‘নির্বাচনী কেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রতিটি কেন্দ্রে মোট ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মধ্যে একজন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) ও একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) এর নেতৃত্বে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলা ভিডিপি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পিসি ও এপিসিরা অস্ত্রসহ এবং ভিডিপি সদস্য-সদস্যারা লাঠি হাতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ২৫০ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা ১ হাজার সেকশনে বিভক্ত হয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন রয়েছে। উপকূলের ১৩টি উপজেলা বাদে সব উপজেলায় আনসার ব্যাটালিয়ন এর একটি করে স্ট্রাইকিং টিম নির্বাচনী পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২ হাজার ৮৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলার জন্য আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে। বিরোধী অনেক পক্ষ চায় না নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক। এ ব্যাপারে তাদের নানান প্রচেষ্টা আছে। তারা চাইবে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক। আমরা সচেতন আছি। কোনো ধরনের নাশকতা নির্মূলে আমরা সক্ষম হবো।’
রেল ও কেপিআই স্থাপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে আনসার প্রধান বলেন, ‘নাশকতা রোধে অভিযান ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। কেপিআই স্থাপনায় আমাদের যে নিরাপত্তা ছিলো সেটি মোতায়েন থাকবে। রেলের নিরাপত্তায় ১৫ হাজার ৭০০ সদস্য কাজ করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে যারা যে দায়িত্ব পালব করেছে তারা নির্বাচনী দায়িত্বের বাহিরে।’
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে শুধু আনসার না। পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও নৌ বাহিনী কাজ করছে। সবার সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সমন্বয় সভা করেছেন। নিরাপত্তা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই। সরকার ও নির্বাচন কমিশন সকল সরঞ্জাম দিতে সহযোগিতা করেছে।’
আনসারের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে কতগুলো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জানতে চাইলে আমিনুল হক বলেন, ‘কোনো কেন্দ্রে ভোট দিতে পারবে না এমন কোনো তথ্য নেই। তবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। সেই সকল কেন্দ্র আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য তথ্যানুযায়ী ১০ হাজার কেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে। এসকল কেন্দ্রে আমরা বেশি গুরুত্ব দিবো। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক আছি। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করবো।’
সংবাদ সম্মেলনে আনসার-ভিডিপির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম উদ্দিন, উপমহাপরিচালক (প্রশাসন) কর্নেল মো. তসলিম এহসান, উপমহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. ফখরুল আলম উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. জিয়াউল হাসান ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।