স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী :: টঙ্গীতে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফজলে রাব্বি সিফাতের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হামলার জন্য তিনি ছাত্রদল কর্মীদের দায়ী করেছেন এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে আজ শুক্রবার সকালে মিল্লাত মাদ্রাসা মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ভুক্তভোগী ফজলে রাব্বি সিফাত বলেন , গত (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার প্রধান ফটকের বিপরীতে বাঁশপট্টি এলাকায় ছাত্রদল কর্মী মামুন তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব থানার সভাপতি পদপ্রার্থী ফজলে রাব্বির অনুসারী মাহফুজ, নাহিয়ান, নাবিউল, সামি শিকদারসহ আরও ৮-১০ জন ছাত্রদল কর্মী।
সিফাত আরো বলেন, তাকে একটি বাঁশের ঘরে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। কুয়েটে ছাত্রদলের হামলার বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে তাঁকে বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। পরে জোরপূর্বক তাঁর কাছ থেকে শিবির সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে ভিডিও বিবৃতি নেওয়া হয়। এরপর অপবাদ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে সিগারেট হাতে ধরিয়ে দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তিনি মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাত্রদলের কর্মীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর সিফাত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টঙ্গী পশ্চিম থানায় যান। কিন্তু ঘটনার স্থান টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় হওয়ায় তারা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পূর্ব থানায় পাঠায়। পূর্ব থানায় যাওয়া পথে পুলিশের গাড়িতে থাকা অবস্থায় তার জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে নারী সংক্রান্ত মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সিফাত বলেন, “আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং কুয়েটের ঘটনায় তা’মীরুল মিল্লাত টঙ্গীর প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলাম। এর জের ধরেই ছাত্রদল কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।” সিফাতের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র শিবির তা’মীরুল মিল্লাত টঙ্গী শাখার অফিস সম্পাদক মঈনুল ইসলামসহ ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।