June 2, 2026, 5:29 am

ডাকাতির নতুন কৌশল: মারামারির নাটক সাজিয়ে ছিনতাই

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, July 12, 2023
  • 128 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম :: মোরশেদ আলম ও ত্রিদিব বড়ুয়া নামের দুই ব্যক্তি মোবাইল বিক্রীর ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখছিল ডাকাত চক্রের ৭-৮ জন সদস্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই কর্মকর্তা ব্যাংকের কাছাকাছি আসতেই ডাকাতদের একজন পেছন দিক থেকে এসে মোরশেদকে ধাক্কা দেয়। সেটি দেখে ত্রিদিব প্রতিবাদ করতেই ডাকাতদের কয়েকজন এসে তাকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে মারতে শুরু করে। আর পাঁচজন মোরশেদকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করতে করতে এক পর্যায়ে কাঁধে থাকা টাকার ব্যাগটা নিয়ে দৌঁড় দেয়। গত ৯ জুলাই এই ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রাম নগরীর জুবলি রোড এলাকায়। টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মালিকের করা মামলায় চার জনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ডাকাতদের কাছ থেকে লুন্ঠিত নগদ ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) এ তথ্য জানান সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে সোমবার (১০ জুলাই) নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পটিয়া থানার দেউরডেঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ড খান বাড়ির মৃত জাফর আহমদের ছেলে মো. একরামুল আলম (৩৭), মীরসরাই থানার পূর্ব মায়ানি এলাকার শাহ আলমের বাড়ির শাহ আলমেরে ছেলে সাহেদ হোসেন মনা (২৪), সাতকানিয়া থানার গোয়াজরপাড়া এলাকার দয়াল বাপের বাড়ির মো. ইউনুছের ছেলে মো. ইয়াছিন প্রকাশ মো. এরফান সাব্বির (২৪) ও কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার আল্লা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল হোসেন মো. ইকবাল হোসেন ইবু (২৩)। এদের প্রত্যকের নামে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক ছিনতাই,মারামারির মামলা রয়েছে।

সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসামিরা সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত চক্র। তারা বড় বড় ব্যবসায়ীদেরকে টার্গেট করে এবং তাদের ব্যাংকিং লেনদেনের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। যে ব্যক্তি ব্যাংকে টাকা জমা দেয় বা উত্তোলন করে তাকে টার্গেট করে। এছাড়া আগে থেকে নির্ধারিত মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যাতে কোনো পথচারী বুঝতে না পারে এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। মারামারির একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। তারা বেশিরভাগই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে।

গত রোববার দুপুরে নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজারের নুর এন্টারপ্রাইজ নামে একটি মুঠোফোন দোকানের দুই কর্মচারী মোহাম্মদ রাশেদ ও ত্রিদীপ বড়ুয়া ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যাগে নিয়ে ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

টাকার ব্যাগটি ত্রিদীপের হাতে ছিল। দু’জন আমতল এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ৭-৮ জন যুবক দুই কর্মচারীকে জটলায় ফেলে টাকার ব্যাগটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। কর্মচারী ত্রিদীপ ব্যাগ আঁকড়ে ধরে সড়কে লুটিয়ে পড়ল ছিনতাইকারীদের একজন তাকে ছুরিকাঘাত করে ব্যাগটি কেড়ে নেয়।

এর পরে ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাই কাজে জড়িত আসামি সাহেদ হোসেন মনাকে শনাক্ত করে সোমবার (১০ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রউফাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা জানায়। পরে তার দেখানো মতে ছিনতাই করা টাকার মধ্যে ভাগে পাওয়া নগদ ৪০ হাজার টাকা বাসার স্টিলের ছোট আলমারির ভেতর থেকে জব্দ করা হয়।

পররবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামি মো. একরামুল আলমকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদরঘাটের মাদারবাড়ি রাবেয়া ওয়ার্কশপের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, গ্রেপ্তার আসামি মনাসহ ৮-১০ জন মিলে ডাকাতি করে লুণ্ঠিত টাকা তার কাছে জমা দিয়েছে। তার মধ্যে কিছু টাকা মনাকে এবং আর কিছু টাকা ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদেরকে দিয়ে অবশিষ্ট টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়। তিনি আরও বলেন, পরে গ্রেপ্তার একরামুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হোটেল প্যারামাউন্টের কক্ষ থেকে নগদ ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ওই দুইজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা সৈন্যেরটেক এলাকা থেকে আসামি মো. ইয়াছিন ও মো. ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তারাও ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সকলেই গ্রেপ্তার আসামি মো. একরামুল আলমের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে। একইসঙ্গে তারা জানায়, গ্রেপ্তার একরামুলের পরিকল্পনায় বাকি আসামিরা বাদির প্রতিষ্ঠানের টাকা কে আনা নেয়া করে তা বেশ কয়েকদিন অনুসরণ করে আসছিল। পরে ব্যাংকে টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা জানতে পেরে মারামারির নাটক সাজিয়ে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে নেয় তারা।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর