July 9, 2026, 3:56 pm

টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ আ.লীগ নেতাদের সঙ্গে মামলার আসামি

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, July 17, 2025
  • 77 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: টঙ্গীর পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বিএনপি নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ ও একটি স্বার্থান্বেষী মহল বাদীকে দিয়ে এই মামলা করিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হারুন অর রশিদ টঙ্গীর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান করছেন।
সূত্রে জানা যায়, হারন অর রশিদ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে বহু আগে থেকেই জড়িত। বর্তমানে  টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সহ-সভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ৫০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদে ছিলেন। সেই সঙ্গে বিএনপির গাজীপুর মহানগরের প্রথম কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক; যে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে হাসান উদ্দিন সরকার ও সোহরাব উদ্দিন। হারুন অর রশিদ  বিএনপির রাজনীতি করেও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মামলার আসামি হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে ।
সম্প্রতি বাড্ডা থানায় জুলাইর ঘটনায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করেন এসএম নাজমুল আলম নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগপত্রে বাদীর ঠিকানা দেখানো হয়েছে নাটোরের সিংড়ার জয়নগর। আর বর্তমান ঠিকানা দেখানো হয়েছে বাড্ডার আদর্শনগর।এই মামলার আসামিদের অধিকাংশই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। এক নম্বর আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসামি তালিকায় রয়েছেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান কামাল।
বাড্ডা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম মামলা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী নন তাদের কোনো অবস্থাতেই হয়রানি করা হবে না।
স্থানীয়রা জানান, টঙ্গী পাইলট স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া হত্যাসহ বেশ কিছু মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আলাউদ্দিন মিয়া গাজীপুর জেলা আওয়ামী শিক্ষক পরিষদের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি  গ্রেফতার হওয়ার পর অধ্যক্ষের পদটি শূন্যতা দেখা দেয়। কলেজের গভর্নিং বডি জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসহ সার্বিক বিবেচনায় কলেজের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদকে গত ১৯ মে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। এরপরই একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইর্ষান্বিত হয়ে হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে।
হারুন অর রশিদের অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে কলেজটিকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ বাণিজ্য করেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সব দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে দিয়েছি। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি সবাইকে নিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। ফ্যাসিবাদী স্বার্থান্বেষী মহলটি কলেজের সার্বিক উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে আমাকে ঘায়েল করতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
হারুন অর রশিদ বলেন, আমি জীবনভর জাতীয়তাবাদী আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতি করে আসছি। এ কারণে আওয়ামী লীগের সময়ে তিন-তিনটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার আসামিও হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরও তাদের চক্রের ষড়যন্ত্রে আবারও আমাকে মামলার আসামি করা হয়েছে। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকার চাই। মিথ্যা মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে  টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় কোনো অভিযোগ নেই। তাছাড়া তার সম্পর্কে আমার অন্য কিছু জানা নেই।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন বলেন, হারুন অর রশিদ বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা। আমার জানা মতে তিনি বিএনপি ব্যতীত অন্য কোনো দলের সঙ্গে কখনোই যুক্ত ছিলেন না। একটি কুচক্রী মহল তাকে আওয়ামী লীগ বানিয়ে তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার  বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু দোসর হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে। তিনি একজন বিএনপি নেতা পাশাপাশি আদর্শ শিক্ষক।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর