আবু সাঈদ চৌধুরী গাজীপুর মহানগরঃ দেশের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার টঙ্গী শাখায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর, শনিবার, মাদরাসার ঐতিহ্যবাহী শহীদ আব্দুল মালেক অডিটোরিয়াম-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার নতুন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। নবীনদের পদচারণায় পুরো প্রাঙ্গণ ছিল মুখরিত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মো. হেফজুর রহমান-এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কারিগরি বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ। এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এম. এম. আল মিনহাজ।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন মাওলানা মিজানুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “শিক্ষকদের কাজ কেবল জ্ঞান বিতরণ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠনেও অবিরাম কাজ করা।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে নৈতিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষকদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, এই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতি, প্রশাসন ও অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
বিশেষ অতিথি ড. হেদায়েত উল্লাহ মাদরাসার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “বিভিন্ন প্রতিকূলতা জয় করে এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষাক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।” তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মাদরাসার গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন যে এটি দেশের আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
অপর বিশেষ অতিথি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই মাদরাসায় দুটি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে, যা শিক্ষার পরিবেশকে আরও উন্নত করবে এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াবে।
সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সার্বিক কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।