স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী :: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে কয়েকজন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের উপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৬জন সাংবাদিক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনকে উত্তরা একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন গুটিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- দৈনিক কালবেলার টঙ্গী প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপন, দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার মহানগর প্রতিনিধি মোঃ আল-আমিন হোসেন, দৈনিক আমাদের সংবাদ পত্রিকার টঙ্গী প্রতিনিধি মস্তু মিয়া, দৈনিক খোলা কাগজের টঙ্গী প্রতিনিধি সুজন সারওয়ার, দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকার টঙ্গী প্রতিনিধি বিএ রায়হান ও বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার টঙ্গী প্রতিনিধি পলাশ সরকার। তাদের মধ্যে মহিন উদ্দিন রিপন গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, টঙ্গীর গুটিয়া এলাকায় সরকারি খাল দখল করে রেখেছে একটি ভূমিদস্যুচক্র। এই খাল বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে যায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় সজল আমজাদ, রাজিবের নেতৃত্বে শামীম, অনিক, বাবুলসহ অজ্ঞাত প্রায় ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের উপর হামলা করে। এ সময় কালবেলার সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনকে হত্যার উদ্দেশে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করতে থাকে। পরে অন্য সাংবাদিকরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা করে।
সাংবাদিক বি এ রায়হান জানান, তারা ৬জন সাংবাদিক সরকারী খাল দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে সেখানে যায়। খাল দখলের ছবি তোলার সাথে সাথে তাদের উপর হামলা করে মোবাইল ও একটি হোন্ডা ছিনিয়ে নেয়।
গুরুতর আহত সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপন বলেন, হামলাকারীরা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য আমার উপর হামলা করে। হামলাকারীরা তার ৩টি মোবাইলসহ সাংবাদিকদের ৬টি মোবাইল ও তার হোন্ডা ছিনিয়ে নেয়।
এই হামলার ঘটনায় টঙ্গীসহ গাজীপুরের সকল সংবাদকর্মীরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
অপরদিকে এই হামলার খবর পেয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এড. মো: জাহাঙ্গীর আলম উত্তরায় ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনকে দেখতে যান। পাশাপাশি আহত অন্য সাংবাদিকদেরও খোঁজখবর নেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হামলার ঘটনা শুনেছি। তবে কেউ এখনও কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।