স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে তিনটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। এ সময় বহিরাগত শ্রমিকদের সাথে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত প্রায় ৮ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ বুধবার এসব ঘটনা ঘটে। পরে পার্শ্ববর্তী আরো তিনটি কারখানার কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ছুটি ঘোষণা করেন।
জানা যায়, সকাল ৮টায় তিস্তারগেট এলাকার হক অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সহস্রাধিক শ্রমিক উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় শ্রমিকরা সিইও আফতাব উদ্দিনের পদত্যাগ, বেতন বৃদ্ধি, বৈষম্য দূরীকরণসহ ১০দফা জানান। পরে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। এক পর্যায়ে ওই শ্রমিকরা পার্শ্ববর্তী মেঘনা রোডে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেইজ লিমিটেড, ব্রাভো অ্যাপারেলস লিমিটেড ও পিনাকী গার্মেন্টসের সামনে জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে বাধ্য হয়ে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেইজ লিমিটেড, ব্রাভো অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানা এক দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করে।
এদিকে, টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকার ড্রেসম্যান ফ্যাশন ওয়্যার লিমিটেড সহস্রাধিক শ্রমিক সকাল ৯টা থেকে কারখানার সামনের শাখা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা সার্ভিস বেনিফিট, হাজিরা বোনাস, নিয়োগে সমতা, দুই কর্মকর্তার পদত্যাগসহ ১৪ দফা দাবি জানান। সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানাটির ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে, যমুনা অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা সকাল ৯টার দিকে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় শ্রমিকরা ম্যানেজার কবিরসহ কয়েকজন কর্মকর্তার পদত্যাগ, শ্রমিকদের সাথে খারাপ আচরণ না করা ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত না করাসহ ১৫দফা দাবি জানান। পরে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে একদিনের জন্য কারখানাটির ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও একই এলাকার পিনাকী গার্মেন্টসে শ্রমিকরা দুপুর ১২টার দিকে ওই সব গামেন্টসের কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক গার্মেন্টস কারখানাটি বন্ধ করতে গেলে বহিরাগত শ্রমিকদের সাথে তাদের ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পিনাকী গার্মেন্টসের মো: রানা (৪২), মো: নাইম (১৯), শরিফুল ইসলাম (২৩) ও অন্তঃসত্ত্বা কুলসুম (২৪) সহ অন্তত প্রায় ৮জন শ্রমিক আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোশারফ হোসেন বলেন, ড্রেসম্যান কারখানার শ্রমিকদের দাবিগুলো কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কারখানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।