নিজস্ব প্রতিবেদক :: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, চিকিৎসক ও নার্স ভালোভাবে কাজ করলে কেউ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবে না। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী নার্স টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সব হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় এখন নার্স ও চিকিৎসকদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা দরকার। আমরা চাই আপনারা নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেন। সেবার পরিধি বাড়ান। আপনারা ভালো সেবা দেন। যারা রোগী আসে তাদের প্রতি সদয় আচরণ করেন। মা ও বোনের মত মমতা দিয়ে সেবা দিতে হবে। ভালো আচরণে রোগী অর্ধেক ভালো হয়ে যায়। আমি আশা করবো আপনারা ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট মিলে আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীকে সেবা দিবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৪৫ বছরে দেশে মাত্র ১৮ হাজার নার্স নিয়োগ হয়েছে। আর বর্তমান সরকারের গত পাঁচ বছরে ২৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন দেশে ৪২ হাজারে নার্সের সংখ্যা উন্নীত করেছি। দেশের সরকারি বেসরকারি নার্সিং কলেজ ইনস্টিটিউটে প্রায় ৩৪ হাজার সিট রয়েছে। প্রতিবছর যদি এসব শিক্ষার্থীকে ভালোভাবে তৈরি করা যায় তাহলে প্রতি বছর সেখান থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি নার্স কাজে যোগ দিতে পারবে। নার্সের উচ্চ শিক্ষার জন্য পোস্ট গ্রাজুয়েট, এমডি, পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশে হেলথ সেক্টরে অনেক অর্জন রয়েছে। কমিউনিটি ক্রিনিকের কল্যাণে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ইপিআই এর কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন হিরোর স্বীকৃতি পেয়েছে। সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবায় শয্যা, প্রতিষ্ঠান ও যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আজিজুর রহমান বলেন, নার্সিং পেশার যোগ্যতা বাড়লে চিকিৎসা সেবার মান বাড়বে। আর চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার মান বাড়বে। নার্সিং শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানে উত্তীর্ণের জন্য ভারতের কেরালা, থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাকসুরা নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নিলুফার নাজনীন ও কানাডিয়ান হাই কমিশনের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স দেব্রা বয়েস প্রমুখ।