গাজীপুরের কাশিমপুরের চক্রবর্তী এলাকায় দুই কারখানার শ্রমিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ জন আহত হয়েছে। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকরা পার্শ্ববর্তী একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অপরদিকে কালিয়াকৈর এবং ঢাকা ইপিজেট ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে যানবাহন আশপাশের আঞ্চলিক সড়কে প্রবেশ করায় ওই সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, শ্রমিকরা পানিশাইল ও কলতাসুতি এলাকায় ঢুকে পড়ে লোকজনদের মারধর করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। বেশ কিছু সময় ত্রিমুখী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় ডরিন ফ্যাশন ও বেক্সিমকোর কিছু শ্রমিক পূর্ব কলতাসুতি এলাকার অ্যামাজন নিটওয়্যার পোশাক কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর সারাবো চক্রবর্তী এলাকার বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা গত কয়েকদিন ধরে বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আসছে। আজও (সোমবার) বেক্সিমকোর শ্রমিকেরা সকাল থেকে নগরীর চক্রবর্তী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ কারণে আশপাশের অন্তত ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া ১ নভেম্বর থেকে পানিশাইল এলাকার ডরিন ফ্যাশন লিমিটেড কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। গত রোববার কারখানা খুলে দেওয়া হলেও দুপুরের পর ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। আজ (সোমবার) সকালে কাজে যোগ দিতে এসে ডরিন ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা দেখেন, তাদের কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই নোটিশ দেখে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের জিরানী এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। একই সময়ে একই সড়কের পৃথক স্থানে বেক্সিমকো কারখানার শ্রমিকেরাও অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডরিন ফ্যাশন ও বেক্সিমকো কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহত শ্রমিকদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় কিছু শ্রমিক পানিশাইল ও কলতাসুতি এলাকায় ঢুকে পড়ে এলাকার লোকজনদের মারধর করেন। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। বেশ কিছু সময় দুই কারখানা শ্রমিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ডরিন ফ্যাশন ও বেক্সিমকোর কিছু শ্রমিক পূর্ব কলতাসুতি এলাকার অ্যামাজন নিটওয়্যার নামের একটি কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে উত্তেজিত শ্রমিকরা ওই পোশাক কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও ঢাকা ইপিজেট ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে শ্রমিকদের সংঘর্ষ থামলেও তারা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।
গাজীপুর শিল্পপুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, বেক্সিমকোর কারখানার শ্রমিকরা বেতন ছাড়া সড়ক থেকে যেতে চাচ্ছেন না। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আশপাশের ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।