July 8, 2026, 11:24 am

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি, ৬ দফা ঘোষণাপত্র

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, November 15, 2025
  • 53 জন দেখেছে

দৈনিক বিজয়বাংলা ডেস্ক :: কাদিয়ানিদের (আহমদিয়া সম্প্রদায়) রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণার দাবিতে ‘আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন’ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত মহাসম্মেলন থেকে আন্দোলনের বিস্তারিত কর্মপন্থা তুলে ধরেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী। তিনি আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে আরও ‘কঠিন থেকে কঠিন’ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। ঘোষণা অনুসারে, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে নিম্নলিখিত তিনটি ধাপে কর্মসূচি পালন করা হবে—

১) গণস্বাক্ষর কর্মসূচি: আগামী ৩০ শে এপ্রিল পর্যন্ত সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতার অংশগ্রহণে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে।
২) স্মারকলিপি প্রদান: আগামী মে ও জুন মাসজুড়ে দেশের প্রতিটি জেলায় দায়িত্বরত জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হবে।
৩) বিভাগীয় মহাসম্মেলন: আগামী জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস সারা দেশে প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হবে।
মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, এসব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিগুলো পালন করার পরও যদি সরকার কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণার ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না করে, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘোষণাপত্রে আহমদিয়া মুসলিম জামাত নামে পরিচিত কাদিয়ানিদের জন্য ধর্মীয় আচার-আচরণ সংক্রান্ত ছয়টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়:
১. অমুসলিম ঘোষণা: আহমদিয়া মুসলিম জামাত নামধারী তথাকথিত কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইসলামের দৃষ্টিতে কাফের সংখ্যালঘু অমুসলিম। তারা ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ নামে নিজেদের পরিচয় দিতে পারবে না এবং সব ক্ষেত্রে ‘কাদিয়ানি সম্প্রদায়’ নামে পরিচিত হবে।
২. ইসলামী পরিভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: কাদিয়ানিরা তাদের ধর্মকে ইসলাম আখ্যায়িত করতে পারবে না এবং কালিমা, নামাজ, রোজা, যাকাত, আজান, ঈদ, কোরবানি ইত্যাদি কোনো ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করতে পারবে না।
৩. উপাসনালয় ও নিদর্শন: কাদিয়ানিরা তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ নামকরণ করতে পারবে না। সেটি ‘কাদিয়ানী উপাসনালয়’ হিসেবে পরিচিত হবে। এছাড়া সাহাবি, উম্মুল মুমিনিন-এর মতো কোনো ইসলামী বিশেষ নিদর্শন তারা ব্যবহার করতে পারবে না।
৪. বিবাহ সম্পূর্ণ হারাম: কাদিয়ানিদের সঙ্গে মুসলমানের বিবাহ ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে হারাম। পরিচয় গোপন করে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫. জানাজা ও উত্তরাধিকার: কাদিয়ানিদের জানাজা পড়া যাবে না এবং কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন করা যাবে না। কাদিয়ানি ও অমুসলমানের মাঝে কোনো উত্তরাধিকারের বিধান প্রযোজ্য হবে না।
৬. প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা: কাদিয়ানিরা ইসলাম প্রচারের নামে কোরআনের বিকৃত অনুবাদ কিংবা কোনো বই, পুস্তিকা, লিফলেট ইত্যাদি ছাপতে বা প্রচার করতে পারবে না।
খতমে নবুয়ত হলো ঈমানের ভিত্তি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু—এই বিশ্বাসে দৃঢ় থেকে মহাসম্মেলন থেকে নেতৃবৃন্দ জানান, তারা শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক উপায়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। তারা কোনো সম্প্রদায় বা ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ বা সহিংসতা নয়, বরং ন্যায় ও যুক্তির মাধ্যমে ইসলামের মূল আকিদা রক্ষার আহ্বান জানান।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর