মাসুদ আলম :: ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘আদম’ সিনেমাকে বিতর্কিত ও সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক ও মানহানিকর চলচ্চিত্র উল্লেখ করে প্রচার ও প্রদর্শন বন্ধের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়ছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে সিনেমার প্রচার ও প্রদর্শন বন্ধ করে নোটিশ দাতাকে অবগত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় দেশের প্রচলিত ও ফৌজদারী আইন মোতাবেক আদালতে মামলা-মোকদ্দমা করার কথা বলা হয়েছে।
রোববার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (BSP) সভাপতি আশীষ কুমার দাশের পক্ষে অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিনেমাটির পরিচালক ও প্রযোজকের বরাবরে এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশ দাতা আশীষ কুমার দাশ মনে করেন , এ ধরণের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক চলচ্চিত্রের মুক্তি পেলে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করবে যা অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পরিকল্পিত ভাবে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার হীনউদ্দেশ্যে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার একটি নীল নকশা ও অপকৌশল মাত্র।
তাই সাম্প্রদায়িক সংঘাত এড়াতে পবিত্র রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতরে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়া থেকে বিরত ও এই চলচ্চিত্রের সেন্সর সনদপত্র বাতিল করে প্রদর্শন ও প্রচার বন্ধ করা একান্ত আবশ্যক।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ইসমাঈল হোসেন। তিনি জানান, রেগুলার বেঞ্চে (নিয়মিত আদালতে) উপস্থাপনের স্বাধীনতা দিয়ে রিটটি আউট অব লিস্ট করা হয়েছে। এখন রেগুলার বেঞ্চে (ঈদের পর) উপস্থাপন করব।
রিটের বিষয়ে আইনজীবী মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘আদম’ সিনেমাটিতে ধর্মীয় বিধান ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটিতে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে প্রমোট করা হয়েছে। তাই সিনেমাটির সেন্সর সনদপত্র/ছাড়পত্র বাতিল করে প্রদর্শন ও প্রচার বন্ধ চেয়ে রিটটি করা হয়েছে।
‘আদম থাইকা আদম সন্তান কেউ ফেরেশতা কেউ বা শয়তান’ ট্যাগ লাইনের সিনেমাটির ট্রেলারও প্রকাশ্যে এসেছে। ২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটার দিকে ট্রেলারটি উন্মুক্ত করা হয়। এর আগে গত ১ মার্চ সিনেমাটির প্রথম পোস্টার প্রকাশ করা হয়।
সিনেমাটিতে আশির দশকে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে ঘটে যাওয়া কঠিন বাস্তবতা আর জীবনবোধের গল্পে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। মাসুদ পারভেজের সংলাপ ও আবু তাওহীদ হিরণের রচনায় এবং চিত্রনাট্য সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন তামিম হোসেন।
আবু তাওহীদ হিরণের পরিচালনায় এ সিনেমায় প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিস বাংলাদেশ খ্যাত জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী ও ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমার অভিনেতা ইয়াশ রোহান ছাড়াও এতে আরো অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী রাইসুল ইসলাম আসাদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, আফফান মিতুল, অ্যালেন শুভ্রদের মতো তরুণ অভিনেতারা। ।