July 8, 2026, 8:07 pm

অপহরণ-হত্যার পর লাশ গুমের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৩

Reporter Name
  • আপডেট Saturday, September 2, 2023
  • 131 জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ :: ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কৃষক লাল মিয়া খানকে (৫০) অপহরণ করে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এমনকি ভিকটিমকে মুক্তিপণ দেওয়ার সময়ও না দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করে ময়মনসিংহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আজ শনিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের সোহেল। ভিকটিম লাল মিয়া তারাকান্দা উপজেলার নলদিঘী গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের পুত্র। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২৯ আগস্ট রাত ৮টার দিকে কৃষক লাল মিয়া বাড়ির পাশে নলদিঘী মোড়ে কাশেমের দোকানে চা পান করতে যান। চা পান শেষে রাত ১০টার দিকে বাড়ির দিকে রওনা করে গেলেও বাড়ি ফেরেননি তিনি। পথ থেকে তাকে গুম করা হয়। পরে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজির পর না পেয়ে ৩০ আগস্টে তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং১৪৩৬) করেন।এরপর বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের সোহেল ওই দিনই এসআই রায়হানুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। এর পরের দিন ৩১ আগস্ট ভিকটিমের মোবাইল থেকে অজ্ঞাত এক লোক ফোন করে ভিকটিমের ছেলের নিকট ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারপর এ মুক্তিপণ আদায়ের সময় না দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টার দিকে নলদিঘী মধ্যপাড়া গ্রামের মজিবরের বাড়ির পাশে তার ফিশারি থেকে লাল মিয়া খানের লাশ উদ্ধার করা হয়। 

সহকারী পুলিশ সুপার (ফুলপুর সার্কেল) মো. আতাহারুল ইসলাম তালুকদার, তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের সোহেল ও এসআই রায়হানুর রহমানসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তারপর ভিকটিমের ছেলে রাসেল মিয়া বাদী হয়ে অভিযোগ করলে ১ সেপ্টেম্বর মামলা (নং ২) দায়ের করা হয়। এর তদন্তভার পান এসআই রায়হানুর রহমান। জানা যায়, মামলা হওয়ার পূর্বে সাধারণ ডায়েরি করার পর ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নলদিঘী গ্রামের সোহেল (৩৫), শাহীন (৪৫) ও আব্দুল বারেক (৪০)কে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নিকট থেকে সদুত্তর না পেয়ে প্রাথমিকভাবে তাদেরকে থানা হেফাজতে রাখা হয়। তারপর সহকারী পুলিশ সুপার (ফুলপুর সার্কেল) মো. আতাহারুল ইসলাম তালুকদার ও তারাকান্দা ওসি আবুল খায়ের সোহেলের নেতৃত্বে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে লাল মিয়া খানকে অপহরণ, গুম ও হত্যার সাথে তারা জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দেয়। এরপর তাদের দেখানো তথ্য মতে, লাল মিয়া খানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের সোহেল বলেন, ময়না তদন্তের জন্য লাল মিয়া খানের লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া আসামিদেরকেও ময়মনসিংহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর