স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৯ বোতল ফেন্সিডিল সদৃশ ‘Phensedyl’ এবং ৬১ বোতল ‘Escuf’ মাদক সিরাপসহ মো. সোহেল রানা (৩৩) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগ। গত রবিবার বিকেলে বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা সংলগ্ন নলজানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের একটি বিশেষ টিম গাজীপুর মহানগর এলাকায় মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ডিউটি করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী ইউনিক ফার্নিচারের সামনে মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার অরূপ রতন সরকার ও সহকারী পুলিশ কমিশনার জোসেফ মঞ্জুর চৌধুরীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মো. হারিছুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় সাক্ষীদের সহায়তায় মো. সোহেল রানাকে আটক করা হয়। পরে তার মাথায় থাকা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো একটি কার্টুন তল্লাশি করে মোট ১২০ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত মাদক সিরাপ জব্দ করা হয়।
Phensedyl সিরাপ: ৫৯ বোতল (প্রতিটি ১০০ মিলি, মোট ৫ লিটার ৯০০ মিলি)। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১,১৮,০০০ টাকা। Escuf সিরাপ: ৬১ বোতল (প্রতিটি ১০০ মিলি, মোট ৬ লিটার ১০০ মিলি)। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১,২২,০০০ টাকা। মোট জব্দকৃত মাদক: ১২০ বোতল, যার মোট আনুমানিক মূল্য ২,৪০,০০০ টাকা। গ্রেপ্তারকৃত মো. সোহেল রানা গাজীপুর সদর থানার লক্ষীপুরা এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, এই মাদকদ্রব্যগুলো সুদূর রাজশাহী থেকে পলাতক আসামী মো. আলী হোসেন (৪৬) ও মো. হাবিবুর রহমান (৩৯)-এর সহযোগিতায় সংগ্রহ করে গাজীপুরে এনে বিভিন্ন মাদকসেবীদের কাছে খুচরা বিক্রি করতেন। পুলিশের নিজস্ব ওয়েবসাইট (সিডিএমএস) যাচাই করে গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা ও পলাতক আসামী আলী হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বাসন থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তার এবং এর সাথে জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।