August 23, 2026, 8:10 pm

ম্যাকাই টেস্টে চরম বিপর্যয়, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হারল বাংলাদেশ

Reporter Name
  • আপডেট Sunday, August 23, 2026
  • 19 জন দেখেছে

স্পোর্টস ডেস্ক :: ডারউইন টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাই টেস্টে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং তোপের সামনে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে গেছে টাইগাররা। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাকাই টেস্টে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি হয়। ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১১৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে হারায় সফরকারীরা। সাদমান ১ রান করে মার্নাস লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দেন। পরের বলেই মুমিনুলের অফস্টাম্প উড়িয়ে দেন স্টার্ক। মাত্র ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চারও মারেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে থাকা তানজিদ হাসান তামিম বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। প্যাট কামিন্সের বলে ৩৪ বলে ৯ রান করে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা তানজিদ এরপর টানা দুই ইনিংসে শূন্য করেছিলেন। ম্যাকাইতে রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কে যেতে পারেননি তিনি।
দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্তর ২৭ রানের জুটি কিছুটা আশা জাগিয়েছিল। তবে সেই প্রতিরোধ ভেঙে দেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন।
এরপর শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের তাণ্ডব। মিচেল স্টার্কের দুর্দান্ত বলে বোল্ড হন লিটন দাস। টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়ে বিব্রতকর এক রেকর্ডের সামনে পড়েন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
এরপর প্যাট কামিন্স টানা দুই ওভারে জোড়া আঘাত হানেন। মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ১ রান করে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দেন। পরে হাসান মাহমুদ ২ রান করে ট্র্যাভিস হেডের হাতে শর্ট লেগে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন।
তাইজুল ইসলাম ২৪ বলে ৭ রান করে স্টার্কের বলে বোল্ড হলে বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ উইকেটটিও পড়ে যায়। মাত্র ৩১ রানের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচে ইনিংস হার এড়ানোর সুযোগও হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত মুশফিকুর রহিম ২৯ ও তাসকিন আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। বিরতির পরই বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়ে যায় এবং ইনিংস ও ৫১ রানের পরাজয় নিশ্চিত হয়।
ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ছিল শরিফুল ইসলামের। মাত্র ৪৮ রান খরচ করে ৭ উইকেট নিয়ে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের সেরা বোলিংয়ের নজির গড়েন তিনি।
তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়। তবে দলের ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার কারণে শরিফুলের অসাধারণ পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরাতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন ৬৭ রান করেন। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনকে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা প্রথমে এলবিডব্লিউ দেননি। পরে বাংলাদেশ রিভিউ নিয়ে সফল হয়।শেষদিকে নাথান লায়নের অপরাজিত ৩২ ও জশ হ্যাজেলউডের ৬ রানের ওপর ভর করে লিড বাড়িয়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাকাই টেস্টের আগে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ম্যাকাইতে খেলতে নামে সফরকারীরা। তবে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতার চরম প্রদর্শনীর কারণে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ম্যাকাইয়ের এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল অস্ট্রেলিয়া।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর