শেখ কামরুল হাসান সাহা:: গাজীপুরের শিক্ষা অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক এমপি, বীরমুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ হাসান উদ্দিন সরকার তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণে। তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা, দূরদর্শী নেতৃত্ব, সততা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই গাজীপুরে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর হাত ধরে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে শিক্ষার আলো পৌঁছেছে, অসংখ্য পরিবার পেয়েছে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো বিশাল এই অবদান থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পদ-পদবীর লোভ করেননি। টঙ্গীর অন্তত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হলেও হাসান উদ্দিন সরকারের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন গাজীপুরবাসী। এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে মূল্যায়নের বিষয় নয়; এটি গাজীপুরের শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা এবং আদর্শকে সম্মান জানানোর বিষয়।
আজ প্রশ্ন উঠেছে যাঁর হাত ধরে এতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছে, যিনি সারাজীবন শিক্ষা ও সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিস্বার্থভাবে কাজ করেছেন তাঁর অবদান, সততা ও অভিজ্ঞতার কি আর কোনো মূল্য নেই?
যখন যোগ্যতা, ত্যাগ, সততা ও অবদান বিবেচনা প্রাধান্য পায়না তখন শুধু একজন গুণী মানুষই নন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষা, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। কারণ গুণীজনকে অবমূল্যায়ন করে কোনো সমাজ কখনো দীর্ঘমেয়াদে সম্মান ও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না।
যাঁরা ইতিহাস সৃষ্টি করেন, তাঁদের সাময়িকভাবে উপেক্ষা করা যেতে পারে; কিন্তু তাঁদের কর্ম, আদর্শ ও অবদান কখনো মুছে ফেলা যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি টঙ্গীসহ গাজীপুরবাসীর দাবী যোগ্যতা, সততা, ত্যাগ ও আজীবনের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করুন। কারণ গুণী মানুষের সম্মান রক্ষা করা মানেই শিক্ষা, সমাজ এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব পালন করা। ইতিহাসকে হয়তো সাময়িকভাবে উপেক্ষা করা যায়, কিন্তু কখনো মুছে ফেলা যায় না। একইভাবে, গুণী মানুষের অবদানও সময়ের প্রবাহে হারিয়ে যায় না; বরং ইতিহাসের পাতায় চিরকাল শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে লিপিবদ্ধ থাকে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পরিশেষে মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গুণীজনের যথাযথ সম্মান ও কদর করার তাওফিক দান করেন।