মো: আক্তার হোসেন ডালী:: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে অবস্থিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও শ্রমিকদলের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আলমগীর পাঠান। উপস্থিত ছিলেন এ সময় টঙ্গী পূর্ব থানা ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ভুলু, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী দাউদসহ বিএনপি, যুবদল ও শ্রমিকদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
লিখিত বক্তব্যে আলমগীর পাঠান বলেন, সম্প্রতি ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিও নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট করেছেন যে, কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে কারখানায় গেলেও তারা কোনো ধরনের ভাঙচুর, চাঁদাবাজি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেননি। বরং কারখানার ওয়েস্টেজ বা পরিত্যক্ত মালামাল বিক্রির বিষয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিএনপির ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ভুলু, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী দাউদ, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আলমগীর পাঠানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। নেতারা এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বক্তব্যে নেতারা বলেন, তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী এবং গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আস্থাশীল। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডকে তারা কখনো সমর্থন করেন না। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের প্রতি প্রচারিত ভিডিওসহ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্তের দাবি জানানো হয়। নেতারা বলেন, তদন্তে যদি কারও বিরুদ্ধে আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে নির্দোষ ব্যক্তিদের সম্মানহানির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, সত্য কখনো গোপন থাকে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। তারা সংঘাত নয় সম্প্রীতি, প্রতিহিংসা নয় ন্যায়বিচার এবং বিভেদ নয় ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন বলেও উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, অপপ্রচার নয়, সত্য তথ্যই জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।