মো: মুর্শিকুল আলম, গাজীপুর:: আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গাজীপুরে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কামাররা। কামারের দোকানগুলোয় ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের; বেড়েছে কোরবানির পশু জবাইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাজ। এর মধ্যে বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও কুড়াল। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জানা যায়, একসময় গ্রাম ও শহরে কামারদের ছিল জমজমাট ব্যবসা। দোকানও ছিল অনেক। কিন্তু এই আধুনিক যুগে অনেকটাই বিলুপ্তির মুখে কামার সম্প্রদায়ের মানুষ। কারখানার অত্যাধুনিক মেশিনে তৈরি, চীন থেকে আমদানি, অনলাইন বিক্রি এবং কয়লা, লোহা ও ইস্পাতের দাম বেড়ে যাওয়ায় কামারদের চাহিদা কমে গেছে। ফলে এই পেশা ছেড়ে অনেকে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। অনেকে আবার বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
টঙ্গী বাজার এলাকার কামার সুকুমল বলেন, আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। আমার বাপ-দাদাও এই পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তবে এই ব্যবসা আগের মতো নেই। কোরবানি ঈদ এলে কিছুটা ব্যস্ত থাকতে হয়। আর সারা বছর কোনো রকম চলে। শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এটা করছি। তবে তিনি তাঁর সন্তানদের এই পেশায় আনবেন না বলে জানান।
গাজীপুরা সাতাইশ এলাকার কামার সুজন বলেন, এটা আমার বাপ-দাদার পেশা। আমি ছোটবেলা থেকেই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বাবার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছি। প্রায় ২০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। একসময় এই ব্যবসা প্রচুর লাভবান ছিল। জিনিসপত্রের দাম কম থাকলেও ব্যবসা ছিল ভালো। সে সময় এসব পণ্য ব্যবহারকারীরা পণ্য তৈরির জন্য বা কিনতে ছুটে আসতেন কামারদের কাছে। কিন্তু শিল্পায়নের এই যুগে কারখানায় অত্যাধুনিক মেশিনে তৈরি হচ্ছে এসব লোহা ও ইস্পাতের পণ্য। শুধু তা-ই নয়, চীনের তৈরি এই ধরনের বিভিন্ন পণ্যও আসছে দেশে। অন্যদিকে অনলাইনে বিক্রি তো আছেই। এ ছাড়া সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে আমাদের চাহিদা অনেক কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সারা বছর আমাদের বেচাকেনা তেমন হয় না। ভবিষ্যতে বাপ-দাদার এই পেশা হয়তো ধরে রাখা যাবে না। আমার সন্তানদের লেখাপড়া করাই। তাদের এই পেশায় আনব না। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে অর্ডার বা চাহিদা একটু বেশি।
টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকা থেকে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসেছেন মেরাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদেই আমরা চাপাতি, ছুরিসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে আসি। এবারও নিলাম। তবে দাম গতবারের তুলনায় একটু বেশি।
বড় দেওড়া এলাকার থেকে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য আসেন নোয়াব আলী। তিনি বলেন, প্রতিবছরই আমরা পুরোনো ছুরি, চাপাতিসহ গরু কাটার কাজে ব্যবহার করা সরঞ্জাম ছান দিতে নিয়ে আসি।
কামারের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, একটি চাপাতির মূল্য আকারভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, একটি ছুরির মূল্য আকারভেদে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, একটি ছোট থেকে বড় বঁটি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় এবং কুড়াল বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকায়।