April 30, 2026, 7:51 pm

টঙ্গীর কেরানীরটেক মাদক বস্তিতে অভিযান মাদক কারবারিদের হামলায় ৪ পুলিশসহ আহত ৫, আটক ৭

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, April 30, 2026
  • 24 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:: টঙ্গীর কেরানীরটেক মাদক বস্তিতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। এসময় পুলিশ বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ৭ জনকে আটক করেছে। এতে ৪ পুলিশসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে টঙ্গীর আমতলী কেরানীরটেক মাদক বস্তিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন বিপুলসংখ্যক পুলিশ নিয়ে কেরানীরটেক মাদক বস্তিতে অভিযান চালায়। এসময় মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে পুলিশকে ঘিরে ফেলে। এসময় মাদক কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। এরপর পুলিশ বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায়। পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন আহত হয়। একপর্যায়ে মাদক কারবারিরা পিছু হটলে পুলিশ ৭ জনকে আটক করে টঙ্গী পূর্ব থানায় নিয়ে আসে। আটককৃতদের মধ্যে স্থানীয় যুবদল কর্মী মো. শাহীন আহমেদ রিজভী ও তার স্ত্রী রয়েছেন। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মো. বেলায়েত হোসেন রাত সাড়ে ১২টায় টঙ্গী পূর্ব থানার একটি প্রস ব্রিফিং করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বুধবার রাত পৌনে ১০টায় গোপন সংবাদের ভিতিত্তে সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আছাবুর রহমানের নেতৃত্বে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভাগের যৌথ টিম টঙ্গী পূর্ব থানাধীন হিমারদীঘি আমতলী কেরানীরটেক এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে যায়। সেখানে গেলে উক্ত এলাকার একাধিক মাদক মামলার আসামি মোসা. রুনা আক্তার রুনা বেগমের (৩৪) বাসার সামনে পাকা রাস্তার ওপর উপস্থিত হলে ধৃত আসামি মো. শাহীন (৩৬), মো. সোহেল (২৮), মো. রায়হান (১৯), রওশন আরা (৩০), সুমি আক্তার (২৪), নূরজাহান (৫৩) ও বিউটি আক্তার (৫৬) ও পলাতক আসামি মোসা. রুনা আক্তার রুনা বেগমসহ (৩৮) অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন আসামিকে ধৃত করার প্রাক্কালে সকল আসামিরা চিৎকার চেঁচামেচি করে ও লোকজন জড়ো করে ডিবি পুলিশের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে কং/১৬৪৩ মো. আরিফুল ইসলামের ডান পায়ের মধ্য আঙুলে ও কং/১৩২৮ মো. রাকিবুল ইসলামের ডান পায়ের মাঝখানে দুইটি আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মারিয়া জখম করে। এএসআই (নিঃ) নুরে আলম, নারী কং/জাহানারাদেরকে উল্লেখিত আসামিরা মারধর করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
উল্লেখিত আসামিরা পুলিশের সরকারী কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান করিতে থাকিলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও নিজেদের জানমাল ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চারটি সাউন্ড গ্রেনেট ফাঁকা বিস্ফোরিত করে।
এরপর আসামিরা এদিক সেদিক দৌড়াইয়া পালানোর চেষ্টা করলে উল্লেখিত ৭ আসামিকে ধৃত করা হয়। তখন পলাতক আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামির দৌড়ে পালিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, টঙ্গী গাজীপুরে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর