নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুর রাজ্জাকসহ তাঁর পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার বাদ জুমা মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হয়। অন্যদিকে নিহত কনেপক্ষের চারজন ও মাইক্রোবাসের চালকের জানাজা শেষে নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক পরিবারের জানাজায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, নিহতদের স্বজনেরাসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। কানায় কানায় ভরে যায় উপজেলা পরিষদ মাঠ। জানাজায় ইমামতি করেন মোংলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন। পরে মোংলা কবরস্থানে পাশাপাশি ৯ জনকে দাফন করা হয়।
এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত কনেপক্ষের চারজনের জানাজা কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে এবং মাইক্রোচালকের জানাজা রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হয়।
জানাজার আগমুহূর্তে পরিবারের নিহত সদস্যদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্ত্রী, সন্তান, বাবা, ভাই ও বোন হারানো নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আশরাফুল আলম জনি। জনির আকুতিতে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
জনি বলেন, ‘আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন, ভাগনে সবই হারিয়েছি। আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইরা ব্যবসা করতেন, কারও যদি কোনো দেনা-পাওনা থাকে জানাবেন, আমরা পরিশোধ করব।’ আর সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন স্বজনহারা জনি।
জানাজাপূর্ব বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনিসহ নিহত সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।