June 2, 2026, 9:06 am

মশার অসহনীয় কামড়ে অতিষ্ঠ গাজীপুর সিটির নাগরিকরা!

Reporter Name
  • আপডেট Thursday, March 12, 2026
  • 84 জন দেখেছে

মো: মুর্শিকুল আলম:: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা হলেই মৌমাছির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ছড়িয়ে পড়ছে বাসাবাড়ি, সড়ক ও খোলা জায়গায়। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। সিটি নাগরিকদের অভিযোগ মশার উৎপাত বাড়লেও সিটি করপোরেশনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। মশার কামড়ে নাগরিকদের ঘুম হারাম হলেও সিটি করপোরেশনের যেন ঘুম ভাঙছে না। নিয়মিত ফগিং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ জোরদার করা হলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না বলেও দাবি তাদের। তবে সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়েছে, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে মূলত তিন প্রজাতির মশার বিস্তার রয়েছে—কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস। শুষ্ক মৌসুমে শীত কম থাকা এবং দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিউলেক্স মশার বিস্তার দ্রুত বাড়ে। নর্দমা ও জলাশয়ের দূষিত পানিতে এদের প্রজনন বেশি হয়। তাপমাত্রা বাড়লে কিউলেক্স মশার জীবনচক্র দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং স্ত্রী মশার রক্তপানের প্রবণতা ও ডিম উৎপাদনও বেড়ে যায়। ফলে তাদের বিস্তারও বাড়ে।
অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বিস্তার বাড়ে, যার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। গাজীপুর সিটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ড্রেন, জলাশয়, ময়লা-আবর্জনারস্তুপ ও ডোবায় প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, বিকাল হলেই দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। তবুও পুরোপুরি রেহাই মেলে না। অনেক পরিবার সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই শিশুদের মশারির ভেতরে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ, এসব মশার কামড়ে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া অনিবার্য।
টঙ্গী এলাকাবার বাসিন্দা মো: তোতা মিয়া বলেন, রাতভর কয়েল, অ্যারোসল, বৈদ্যুতিক ব্যাট বা মশারি—সব ব্যবহার করেও স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। অপরিচ্ছন্ন ড্রেন, নির্মাণাধীন স্থানে জমে থাকা পানি এবং জলাবদ্ধতা মশার প্রধান প্রজননস্থল হয়ে উঠেছে। শুধু ওষুধ ছিটানো নয়, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ফগিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নাগরিকরা সচেতন না হলে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে প্রয়োজন অনুযায়ী অঞ্চলভিত্তিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন বলেন, শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কার্যকর নিয়ন্ত্রণের জন্য সামাজিক সচেতনতা ও নিয়মিত মনিটরিং বৃদ্ধি করতে হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর