June 2, 2026, 10:14 am

কাপাসিয়ায় রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

Reporter Name
  • আপডেট Wednesday, March 11, 2026
  • 78 জন দেখেছে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের চলাচলের রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করার অভিযোগ। এই প্রতিবাদে শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেছেন। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর এলাকায় এই মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা হারিছ উদ্দিনের স্ত্রী মিনারা বেগম বলেন, আমি গত প্রায় চার বছর আগে ফজলুল হকের কাছ থেকে জমি বায়না করি। পরে দুলালপুর-চান্দেরপুল রাস্তার সংযোগ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হারিছ উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি তিন লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করে চলাচল করে আসছি। কিন্তু স্থানীয় আব্দুল খালেক, আমির উদ্দিন, জিসান, মাসুদ রহমান, ফারুক হোসেনসহ তাদের তিনজন সহযোগী রাস্তায় খুঁটি পুঁতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে খুঁটি উঠিয়ে দেয়। সম্প্রতি তারা আবার রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করে। এ সময় বাধা দিলে অভিযুক্তরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ও বাড়িঘরে হামলা করার হুমকি দেয়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস বসলে মীমাংসা না হওয়ায় তিনি কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মিনারা বেগম তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পেয়ে স্থানীয় এমপির সহযোগিতা চান। আমাকে এখান দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা দিতে হবে। অন্যথায় রাস্তা নির্মাণের তিন লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে। এই রাস্তা দিয়ে প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবারের লোকজন চলাফেরা করে। রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও গ্রামের শিশু-কিশোররা চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশীদ বলেন, জমির মালিক ফজলুল হকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে জমির যেকোনো এক পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করায় ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে কোনো রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যায় না। আমরা গ্রামবাসী স্থানীয় এমপি ও প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতায় পুনরায় রাস্তা নির্মাণ করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
বারিষাব ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড মেম্বার তাহের মুন্সি বলেন, আমি নিজে উপস্থিত থেকে তাদের অর্থায়নে রাস্তাটি নির্মাণ করে দিয়েছিলাম। পরে শুনছি, স্থানীয় কে বা কারা রাস্তা কেটে ফসলি জমি তৈরি করেছে। এতে করে ওই গ্রামের প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবারকে চলাচলের দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল খালেককে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককে দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর অভিযোগটিও বারিষাব ইউনিয়নের প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরও খবর